ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ: ৩ জন গ্রেফতার, তদন্তে পুলিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 25

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ: ৩ জন গ্রেফতার, তদন্তে পুলিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত নয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন যুবককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে টিএসসি, ভিসি চত্বর, প্রশাসনিক ভবন ও নীলক্ষেত তোরণসহ একাধিক জায়গায় একের পর এক ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। আচমকা এই পর পর বিস্ফোরণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন  গ্যাস লিকেজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বার্ন ইনস্টিটিউটে ৯ জন ভর্তি

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নাটোরের গুরুদাসপুরের বাসিন্দা রেজাউল করিম (৪২), রাজশাহীর পুঠিয়ার সোহেল রানা (৩৩) এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার নাজমুস সাদ (৩৩)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের এলাকা থেকে তাদের ধরে ফেলা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে উপস্থিত জনতা ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় পুলিশ তাদের আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটির বিশদ তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় প্রথমে টিএসসি সংলগ্ন স্থানে দুটি ককটেল ফুটতে দেখা যায়। এর কয়েক মিনিট আগেই, প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর একে একে প্রশাসনিক ভবনের পার্শ্ববর্তী এলাকা, ভিসি চত্বর, নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, জগন্নাথ হলের আশপাশ, শাহবাগ ও বাংলা একাডেমি এলাকাতেও বিস্ফোরণের ভারী শব্দ পাওয়া যায়।

বিস্ফোরণের পরই টিএসসি এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে কয়েকজনকে ঘিরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সেখানে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তিনজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ঢাবি প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, যৌথ প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসে ৭ থেকে ৯টির মতো ককটেল ফুটলেও কোনো ধরনের হতাহত বা বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তা পুনঃমূল্যায়নে সভা ডাকা হয়েছে।

প্রক্টর আরও মন্তব্য করেন, মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করতেই এই নাশকতা চালানো হয়ে থাকতে পারে। অপরাধীরা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি করতে চাইলেও প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জবানবন্দি নেওয়া হলে এ বিষয়ে মূল কারণ জানা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ: ৩ জন গ্রেফতার, তদন্তে পুলিশ

আপডেট সময় ১০:১৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ: ৩ জন গ্রেফতার, তদন্তে পুলিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত নয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন যুবককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে টিএসসি, ভিসি চত্বর, প্রশাসনিক ভবন ও নীলক্ষেত তোরণসহ একাধিক জায়গায় একের পর এক ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। আচমকা এই পর পর বিস্ফোরণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন  জাবালিয়ায় বিস্ফোরণে তিন ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত দুই

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নাটোরের গুরুদাসপুরের বাসিন্দা রেজাউল করিম (৪২), রাজশাহীর পুঠিয়ার সোহেল রানা (৩৩) এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার নাজমুস সাদ (৩৩)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের এলাকা থেকে তাদের ধরে ফেলা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে উপস্থিত জনতা ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় পুলিশ তাদের আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটির বিশদ তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় প্রথমে টিএসসি সংলগ্ন স্থানে দুটি ককটেল ফুটতে দেখা যায়। এর কয়েক মিনিট আগেই, প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর একে একে প্রশাসনিক ভবনের পার্শ্ববর্তী এলাকা, ভিসি চত্বর, নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, জগন্নাথ হলের আশপাশ, শাহবাগ ও বাংলা একাডেমি এলাকাতেও বিস্ফোরণের ভারী শব্দ পাওয়া যায়।

বিস্ফোরণের পরই টিএসসি এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে কয়েকজনকে ঘিরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সেখানে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তিনজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ঢাবি প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, যৌথ প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসে ৭ থেকে ৯টির মতো ককটেল ফুটলেও কোনো ধরনের হতাহত বা বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তা পুনঃমূল্যায়নে সভা ডাকা হয়েছে।

প্রক্টর আরও মন্তব্য করেন, মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করতেই এই নাশকতা চালানো হয়ে থাকতে পারে। অপরাধীরা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি করতে চাইলেও প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জবানবন্দি নেওয়া হলে এ বিষয়ে মূল কারণ জানা যাবে।