হাসিনার প্রত্যাবর্তন জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী
- আপডেট সময় ০৭:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 15
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা নিজের দেশের সন্তানদের রক্ত পান করতে দ্বিধা করে না, তাদের আবার দেশে ফিরে এসে বসে পড়ার বিষয়টি জনগণ কখনো মেনে নেবে না।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের সামনে তরুণদের আত্মত্যাগের যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেই বিপ্লব বৃথা যেতে পারে না।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘এত রক্ত শোষণ করে, রক্ত চেটে যিনি নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দেশ পরিচালনা করলেন, তিনি এখন বলে দিলেন যে ডিসেম্বরে চলে আসবেন! এ দেশের মানুষের চোখের সামনে মুগ্ধ, আবু সাঈদ, ফাইয়াজদের মতো তরুণদের বুক চিতিয়ে বুলেট বরণ করার যে মহাকাব্যিক বাস্তব বিপ্লব আমরা দেখলাম, সে বিপ্লব কি বৃথা যাবে?
শেখ হাসিনা প্যারাসুট দিয়ে নামবেন আর সবাই ঢোল বাজাতে বাজাতে তাকে অভ্যর্থনা জানাব, এটা কোনোদিনই হতে পারে না।’
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাংলার মাটি বীর জন্ম দিয়েছে, এই মাটিতে যারা ভীত শৃগালের মত যারা পালিয়ে যায়, যারা নিজের দেশের সন্তানের রক্ত পান করতে দ্বিধা করে না। তারা আবার উড়ে এসে জুড়ে বসবে আর জনগণ মেনে নেবে এটা কোনদিনই হওয়া সম্ভব না। পালাতক হাসিনা হিন্দুস্থান থেকে আওয়াজ দিচ্ছেন এই যাব, এই করব। তিনি দিবা স্বপ্নের মধ্যে রয়েছেন। হত্যাকারী এবং রক্তপানকারীর প্রত্যাবর্তন এখানে সম্ভব নয়।’
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেনি, বরং বিদেশি প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতিরও সূচনা করেছিল।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে চুক্তি করবে তা সরকার ও জনগণের নিজস্ব ব্যাপার, কারো অঙ্গুলি হেলনে চলবে না, এটি ৭ নভেম্বরের পরই নিশ্চিত হয়।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তিনি একটি দক্ষ ও চৌকস সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সেনাবাহিনীকে রাজনীতিকরণের পক্ষে ছিলেন না তিনি। রিজভীর ভাষ্য, আজকের আধুনিক সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমানের অবদান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
এতে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ অন্যান্য নেতারা। এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




















