কপ-৩১ সম্মেলনে নেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার
- আপডেট সময় ১২:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / 19
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর নীতির কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার (৯ নভেম্বর) তুরস্কের আনতালিয়ায় শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১)। সম্মেলন চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের সরকারি প্রতিনিধি, বিজ্ঞানী, পরিবেশবাদী সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকেরা এবারের সম্মেলনকে ‘বাস্তবায়নভিত্তিক সম্মেলন’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ও কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুপস্থিতি বৈশ্বিক উদ্যোগকে দুর্বল করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এরপর ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামো সনদ (ইউএনএফসিসিসি) থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কাঠামো সনদ থেকে এই প্রত্যাহার আগামী বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এর আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পাঠানো থেকে বিরত রয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত চুক্তি ও সংস্থাগুলো মার্কিন অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করে।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদল না গেলেও দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় সরকার ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ‘আমেরিকা ইজ অল ইন’, ‘ক্লাইমেট মেয়রস’ ও ‘ইউএস ক্লাইমেট অ্যালায়েন্স’-এর উদ্যোগে ১০০ জনের বেশি মার্কিন নেতা, গভর্নর, মেয়র ও বিজ্ঞানী এবং মার্কিন কংগ্রেসের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তুরস্কে অবস্থান করছেন।
সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুতের অংশ বর্তমানের ২০-২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য। পাশাপাশি কয়লা ও গ্যাসের পরিবর্তে সৌর ও বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বল্প সময়ে দ্রুত তাপ আটকে রাখা মিথেন গ্যাস কমাতে তেল-গ্যাস উত্তোলন, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও রয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোকে বন্যা, তাপপ্রবাহ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হাত থেকে রক্ষায় সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভবন খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো নিয়ে আলোচনা চলছে।
কপ-২৯-এর ঘোষণা অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলোর নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার রূপরেখা ও বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই অর্থায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারে তথ্যকেন্দ্রগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদার পরিবেশগত প্রভাব কমাতে ‘আন্তালিয়া এআই অঙ্গীকার’ শীর্ষক নতুন উদ্যোগ সামনে আনা হয়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশগুলোর বর্তমান প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবায়িত পদক্ষেপের মধ্যে এখনো বড় ফারাক রয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু স্কুলের ডিন ড. অ্যালেক্সিস আব্রামসন ও ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যাডেল থমাসের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, এই তিন বিষয়কে একযোগে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।





















