ফুটবলে নজিরবিহীন ঘটনা: এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, ছাড়িয়ে গেল আগের রেকর্ড
- আপডেট সময় ০৯:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 22
ব্রাজিলের একটি ফুটবল ম্যাচে গোল উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫১ জনকে বহিষ্কার করেছেন রেফারি। দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে শুরু হওয়া মারামারি এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে, ম্যাচ শেষ ঘোষণা করতে বাধ্য হন রেফারি। সংখ্যার হিসাবে ঘটনাটি ছাড়িয়ে গেছে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের আগের রেকর্ডও।
গত রোববার (১ নভেম্বর) ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২০ দ্বিতীয় বিভাগের চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় উবারলান্দিয়া ও মামোরে। পার্কে দো সাবিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় মামোরে। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে দুই দলের নজিরবিহীন সংঘর্ষ।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ও ও তেম্পোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচে ৫১ জনকে বহিষ্কার করেন রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসগিচ মোদেস্তো। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৪৩ জন ফুটবলার এবং দুই দলের কোচিং স্টাফের আট সদস্য রয়েছেন। তবে সিএনএন ব্রাসিল ও ইতাতিয়া উবারলান্দিয়ার আরও দুই কর্মকর্তাকে হিসাবের মধ্যে এনে মোট বহিষ্কৃতের সংখ্যা ৫৩ বলে উল্লেখ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। তখন ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল মামোরে। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন জোয়াও ভিতোর। গোল উদ্যাপনের সময় উবারলান্দিয়ার ডাগআউটের সামনে উত্তেজনাকর অঙ্গভঙ্গি ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন মামোরের ফুটবলার দাভি ফার্নান্দেস বিতেনকুর্ত।
রেফারির ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উবারলান্দিয়ার গোলরক্ষক কোচ পাওলো সের্জিও দিয়াস দোস সান্তোস মাঠে প্রবেশ করে বিতেনকুর্তকে ধাক্কা দেন। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি মাঠে স্ট্রেচার ও চেয়ার ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। রেফারির প্রতিবেদনে ছয়জন বলবয়ের বিরুদ্ধেও মারামারিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ম্যাচ শেষ ঘোষণা করেন রেফারি। সংঘর্ষের সময় প্রত্যেককে আলাদাভাবে লাল কার্ড দেখানো সম্ভব না হওয়ায় ম্যাচের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বহিষ্কারের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়।
মোট ৫১টি বহিষ্কারের মধ্যে ৪৮টি ছিল শেষ মুহূর্তের গণসংঘর্ষের ঘটনায়। বাকি তিনজনকে পৃথক ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়।
ম্যাচে এর আগেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উবারলান্দিয়ার লুইকে বিসপো দোস সান্তোস লাল কার্ড দেখার পর রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্লাবটির কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠে প্রবেশ করেন। তাদের বিরুদ্ধে রেফারিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ওই ঘটনার পর প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে ম্যাচ আবার শুরু হয়। তবে শেষ মুহূর্তের সংঘর্ষে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মাঠের সংঘর্ষের পর স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমেও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মিনাস জেরাইস রাজ্যের সামরিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের প্রায় ১৪টি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বাথরুমের সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও দুটি হট টাব ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এই ঘটনায় ফুটবল ইতিহাসে এক ম্যাচে বহিষ্কারের আগের রেকর্ডও সংখ্যার হিসাবে ছাড়িয়ে গেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬ জন ফুটবলার বহিষ্কারের স্বীকৃত রেকর্ড হয়েছিল ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি।
সেদিন আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ম্যাচে আতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরে দুই দলের মূল একাদশ ও বদলি খেলোয়াড় মিলিয়ে ১৮ জন করে মোট ৩৬ ফুটবলারকে বহিষ্কার করেন রেফারি দামিয়ান রুবিনো।
প্রায় ১৫ বছর পর ব্রাজিলের ম্যাচে সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেলেও নতুন ঘটনাটিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি দেয়নি গিনেস কর্তৃপক্ষ।
আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আবারও মুখোমুখি হওয়ার কথা উবারলান্দিয়া ও মামোরের। তবে বিপুলসংখ্যক ফুটবলার বহিষ্কৃত হওয়ায় ওই ম্যাচে কোন খেলোয়াড়রা মাঠে নামতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

























