কাল থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ
- আপডেট সময় ০৯:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 21
দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পথে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে জাহাজ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট ছেড়ে যাবে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ। এর মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে দ্বীপে পর্যটক পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও জেলা প্রশাসনের সম্মতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে নির্ধারিত সময়েই জাহাজ চলাচল শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনুমোদন পাওয়ায় এখন থেকে নিয়মিত পর্যটক পরিবহন করা সম্ভব হবে।
এ মৌসুমে চলাচলের অনুমতি পাওয়া তিনটি জাহাজ হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। জাহাজ তিনটির সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে বার আউলিয়ায় ৮৫০, কর্ণফুলীতে ৭৩২ এবং টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী উঠতে পারবেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে দ্বীপে পৌঁছানোর পর বেলা আড়াইটায় ফিরতি যাত্রা করবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ফিরবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। অন্যদিকে এমভি টেকনাফের যাত্রা শুরু হবে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এবং ফিরতি যাত্রা হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকেই পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় এত দিন নৌযান চলাচল শুরু করা যায়নি। নতুন নির্দেশনা অনুসারে, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটিতে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতেও অবস্থান করতে পারবেন।
দ্বীপে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত টিকিটও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া দৈনিক পর্যটক প্রবেশের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার।
পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে দর্শনার্থীদের। রাতের বেলায় সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ কিংবা কেয়া ফল সংগ্রহ, কেনাবেচার অনুমতি নেই।
এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো প্রাণী বা প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

























