সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর
- আপডেট সময় ০৬:২৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামি আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম আসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামিন আবেদনে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণে তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। আবেদনে আরও বলা হয়, ডন শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যাবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেন তাঁর আইনজীবী। এ জন্য উপযুক্ত জামিনদার দেওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সালমান শাহর প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ২৫ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এজাহারে বাদী দাবি করেন, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমানের মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানকে নিয়ে তাঁদের সিলেটের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সালমানের মা-বাবা গ্রিন রোডের বাসায় আলাদাভাবে থাকতেন। তাঁরা ইস্কাটনের বাসায় পৌঁছালে সালমানের স্ত্রী সামিরা ও গৃহকর্মী আবুল জানান, তিনি ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমিয়ে আছেন শুনে তাঁর মা-বাবা স্ত্রী সামিরাকে জানিয়ে আসেন, সিলেটে যাওয়ার পথে আবার তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর তাঁরা ও প্রযোজক সিদ্দিক বাসা থেকে চলে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, তাঁর ছেলের কিছু একটা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় যান। সেখানে শোবার ঘরে সালমানকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।
এজাহারে বলা হয়, সে সময় দু-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামের এক নারী সেখানে বসে ছিলেন। সালমানের মা অভিযোগ করেন, সামিরা তাঁকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে মা-বাবা সালমানকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলচে হয়ে যেতে দেখেন। অবস্থার অবনতি দেখে তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

























