কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশি হেফাজতে
- আপডেট সময় ০৬:০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 24
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়তেন। তার স্বামী নাজমুলও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ফারজানার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়। অন্যদিকে, নাজমুলের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তারা ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এ নির্যাতনের কারণে গত বছরের ডিসেম্বরে ফারজানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন তিনি।
আরিফুলের ভাষ্য, সম্প্রতি দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বোনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছিল বলে জানান আরিফুল।
ফারজানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

























