সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: মাহদী আমিন
- আপডেট সময় ১২:৫২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 148
সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সব নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করাই সরকারের পরিকল্পনা। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যাতে বৈষম্য বা বিভেদের শিকার না হন, সে লক্ষ্যেই কাজ করতে চায় সরকার।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহালয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, মহালয়া নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের মূল শিক্ষা।
মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া উদযাপনের জন্য সবাই এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছেন, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা পেছনে রেখে সবার পরিচয় বাংলাদেশি—এমন একটি দেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন—এমন বাংলাদেশই তাঁদের প্রত্যাশা।
এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি এমন একটি মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা জানান, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতির কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।
মহালয়ার বার্তা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণ এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ অন্যরা।
























