মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আপস নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:২১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 45
পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের কোনো দ্বিমত নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ দুই পবিত্র স্থান আক্রান্ত হলে সৌদি আরবের চাহিদা অনুযায়ী সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমবাজারও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সৌদি আরবে আরও দক্ষ কর্মী পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চল ঘিরে বিপুলসংখ্যক মুসলমানের বসবাস। মুসলিম দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার—এ বিষয়ে কোনো আপস নেই।
সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত কর্মী পাঠানো ও রেমিট্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই গণ্ডি পেরিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। প্রচলিত শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সহযোগিতার বাইরে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও অংশীদারত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নির্ভরতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরে বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাপান সরকারের আগ্রহ ও বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোও আলোচনায় আসবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
























