নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম, স্বস্তিতে ৩১ বাংলাদেশি নাবিক
- আপডেট সময় ০৯:৫৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 20
দীর্ঘ প্রায় চার মাসের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পার হয়ে যায়। বর্তমানে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাজটি এখন পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।
জাহাজটির চলাচলে জটিলতা শুরু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ভারত থেকে পণ্য পরিবহনের পর ২ ফেব্রুয়ারি এটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়।
এরপর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে জাহাজটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে পড়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা পরিবর্তন করে বিএসসি। পরে সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে জাহাজটিকে সরিয়ে নিতে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলসংক্রান্ত জটিলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি দীর্ঘ সময় রাস আল খায়ের বন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে ১০ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানি কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে পড়ে জাহাজটি। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে এটি ওমানের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান নেয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করায় জাহাজটির যাত্রা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।

























