ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

চীন সফরে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত দেখছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 35

ছবি সংগৃহীত

 

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের এবারের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেছেন, পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এ সফর শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ না রেখে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সফরপূর্ব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি চীনে দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের সফর। সফরে চীনের সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই চীনকে কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেখলে চলবে না; দেশটির সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। চীন কীভাবে এত বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়েছে, তা অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চীনে হওয়ায় দেশটির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে। বর্তমানে তা সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি সহায়তা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনা দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

চীন সফরে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত দেখছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ

আপডেট সময় ০৬:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের এবারের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেছেন, পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এ সফর শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সীমাবদ্ধ না রেখে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সফরপূর্ব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি চীনে দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের সফর। সফরে চীনের সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই চীনকে কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেখলে চলবে না; দেশটির সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। চীন কীভাবে এত বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়েছে, তা অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চীনে হওয়ায় দেশটির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে। বর্তমানে তা সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি সহায়তা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনা দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।