ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপদ পানি জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: মঈন খান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

সারা দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। এ উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে যুক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের কাছে কীভাবে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পানি মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য হলেও দূষিত বা জীবাণুযুক্ত পানি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন  সরকারি প্রকল্পে একই কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধের তাগিদ মন্ত্রীর

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে একসময় প্রচুর পানি থাকলেও অনেক নদী এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে এর প্রভাব পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। উত্তরের জেলাগুলোতে মরুকরণ বা মরুভূমির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলেও।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে গেলে বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ত পানি উজানের দিকে উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকটও তীব্র হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য পানীয় জলের সমস্যা দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়াই সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করা যায় এবং প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে যে সমন্বিত প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, এর সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমান।

বৈঠকে ইউনিসেফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। এসব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়ে আসছে। তবে অতীতে সেই সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

ভবিষ্যতে দুর্নীতি দূর করে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবায় যথাযথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিরাপদ পানি জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: মঈন খান

আপডেট সময় ০৪:১২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সারা দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। এ উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে যুক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের কাছে কীভাবে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পানি মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য হলেও দূষিত বা জীবাণুযুক্ত পানি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন  জনস্বার্থের প্রকল্পে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে একসময় প্রচুর পানি থাকলেও অনেক নদী এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে এর প্রভাব পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। উত্তরের জেলাগুলোতে মরুকরণ বা মরুভূমির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলেও।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে গেলে বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ত পানি উজানের দিকে উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকটও তীব্র হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য পানীয় জলের সমস্যা দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়াই সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করা যায় এবং প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে যে সমন্বিত প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, এর সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমান।

বৈঠকে ইউনিসেফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। এসব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়ে আসছে। তবে অতীতে সেই সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

ভবিষ্যতে দুর্নীতি দূর করে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবায় যথাযথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।