ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য যত দূর যেতে হয় যাব: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা ও পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নদী দুটিতে ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে দেশের ১৪ জেলার মানুষ উপকৃত হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব দেশের মানুষেরই। বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশ গড়ে দেবে না। একটি কুচক্রী মহল উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এটাই তাঁদের স্লোগান।

আরও পড়ুন  টেক্সটাইল শিল্পে পানি সংরক্ষণের আহ্বান এ্যানির

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি মনে করে কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ কারণে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য কী কী করা হবে, তা তুলে ধরা হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক ও বড় কৃষকদের মধ্যে এ কার্ড বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে। মোট ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্তত একটি ফসলের জন্য সার, বিষ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা থাকবে, যাতে কৃষকদের দুর্ভোগ কমে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা বিমা করতে পারবেন, ব্যাংকঋণ নিতে পারবেন এবং আবহাওয়া সম্পর্কেও আগাম তথ্য জানতে পারবেন। কৃষক কার্ডে মোট ১০টি সুবিধা থাকবে।

তারেক রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভান্ডার হলেও এ অঞ্চলের কৃষকেরা পানির সংকটে ভোগেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বরেন্দ্র প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে জয়ী হলে খাল ও নদী খনন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি।
পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার কিলোমিটার খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব উদ্যোগের ফলে পানি ও সেচের সুবিধা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ হবে।

রাজশাহীর হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নেতারা হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০। সেটি ২ হাজার ৫০০ করার প্রস্তাব এসেছে।
বিএনপি জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ৩০ শয্যার হাসপাতাল চালু করেছিলেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া আরও ২০টি শয্যা বাড়িয়ে সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। এবার ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর ফলে গ্রামের মা-বোনদের চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হবে না। কিডনি রোগীসহ বিভিন্ন রোগীর জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থাও করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই বিএনপির লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জুন মাসে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। ডায়ালাইসিসের ওষুধের দাম কমানো হয়েছে এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জামের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকা প্রায় ৪৬টি কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি দেশের নিরাপত্তা জোরদার, বন্ধ কারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে।
বেকারত্ব কমাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, যারা এ ধরনের কর্মসূচি নিতে চায়, তারা জনগণের বন্ধু কি না, তা মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন জনগণের জন্য নেওয়া কর্মসূচি। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে।

নারীশিক্ষা প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খালেদা জিয়া মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দিয়েছিলেন। বিএনপি মেয়েদের স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। তাঁর মতে, শিক্ষার পাশাপাশি মেয়েদের স্বাবলম্বী করে তোলাও জরুরি।

নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সহায়তার অর্থ সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পুঁজি গড়ে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরিতেও কাজে লাগানো যাবে। এর মাধ্যমে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল এসব উদ্যোগ সমর্থন করে না এবং জনগণও তাদের কথায় আর বিশ্বাস করে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করে। এ কারণেই দলটি শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল মুখে চব্বিশের চেতনার কথা বললেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, ওই দল চব্বিশের আন্দোলনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে; কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। জনগণ স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান চায় উল্লেখ করে তিনি বিএনপির স্লোগান—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মিথ্যা কথা বলে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল। এখন সবাইকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে বোতাম চেপে তিনি কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন। কৃষকদের মুঠোফোনে অর্থ পৌঁছানোর পর তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীও একই ধ্বনি দিয়ে সাড়া দেন। এ সময় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য যত দূর যেতে হয় যাব: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

তিস্তা ও পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নদী দুটিতে ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে দেশের ১৪ জেলার মানুষ উপকৃত হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব দেশের মানুষেরই। বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশ গড়ে দেবে না। একটি কুচক্রী মহল উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এটাই তাঁদের স্লোগান।

আরও পড়ুন  পাহাড়ি জীবনের চ্যালেঞ্জ: খরার কারণে পানির সংকট

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি মনে করে কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ কারণে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য কী কী করা হবে, তা তুলে ধরা হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক ও বড় কৃষকদের মধ্যে এ কার্ড বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে। মোট ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্তত একটি ফসলের জন্য সার, বিষ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা থাকবে, যাতে কৃষকদের দুর্ভোগ কমে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা বিমা করতে পারবেন, ব্যাংকঋণ নিতে পারবেন এবং আবহাওয়া সম্পর্কেও আগাম তথ্য জানতে পারবেন। কৃষক কার্ডে মোট ১০টি সুবিধা থাকবে।

তারেক রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভান্ডার হলেও এ অঞ্চলের কৃষকেরা পানির সংকটে ভোগেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বরেন্দ্র প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে জয়ী হলে খাল ও নদী খনন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি।
পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার কিলোমিটার খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব উদ্যোগের ফলে পানি ও সেচের সুবিধা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ হবে।

রাজশাহীর হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নেতারা হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০। সেটি ২ হাজার ৫০০ করার প্রস্তাব এসেছে।
বিএনপি জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ৩০ শয্যার হাসপাতাল চালু করেছিলেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া আরও ২০টি শয্যা বাড়িয়ে সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। এবার ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর ফলে গ্রামের মা-বোনদের চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হবে না। কিডনি রোগীসহ বিভিন্ন রোগীর জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থাও করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই বিএনপির লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জুন মাসে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। ডায়ালাইসিসের ওষুধের দাম কমানো হয়েছে এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জামের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকা প্রায় ৪৬টি কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি দেশের নিরাপত্তা জোরদার, বন্ধ কারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে।
বেকারত্ব কমাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, যারা এ ধরনের কর্মসূচি নিতে চায়, তারা জনগণের বন্ধু কি না, তা মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন জনগণের জন্য নেওয়া কর্মসূচি। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে।

নারীশিক্ষা প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, খালেদা জিয়া মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দিয়েছিলেন। বিএনপি মেয়েদের স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। তাঁর মতে, শিক্ষার পাশাপাশি মেয়েদের স্বাবলম্বী করে তোলাও জরুরি।

নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সহায়তার অর্থ সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পুঁজি গড়ে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরিতেও কাজে লাগানো যাবে। এর মাধ্যমে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল এসব উদ্যোগ সমর্থন করে না এবং জনগণও তাদের কথায় আর বিশ্বাস করে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করে। এ কারণেই দলটি শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল মুখে চব্বিশের চেতনার কথা বললেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, ওই দল চব্বিশের আন্দোলনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে; কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। জনগণ স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান চায় উল্লেখ করে তিনি বিএনপির স্লোগান—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মিথ্যা কথা বলে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল। এখন সবাইকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে বোতাম চেপে তিনি কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন। কৃষকদের মুঠোফোনে অর্থ পৌঁছানোর পর তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীও একই ধ্বনি দিয়ে সাড়া দেন। এ সময় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।