ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বড় বিপদ থেকে মহাকাশে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি সংগৃহীত

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের গর্বের স্যাটেলাইট ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ (বিএস-১)। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ট্র্যাকার’ থেকে গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে জরুরি সতর্কবার্তা আসে। এতে জানানো হয়, ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসছে।

মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা তাদের ধ্বংসাবশেষের সংঘর্ষের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। ২০০৯ সালে এমন এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সচল এবং রাশিয়ার একটি অকেজো স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে বাংলাদেশের বিএস-১।

সতর্কবার্তা পাওয়ার পর গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রকৌশলীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, পরবর্তী চার দিন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটে। স্যাটেলাইটটির অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগও ছিল খুব সীমিত।

আরও পড়ুন  সাজেকে শুরু হলো স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশনের কার্যক্রম

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা বস্তুটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি ধ্বংসাবশেষ। এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে বিএস-১ একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

এবার পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১-এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন প্রকৌশলীরা। সেই অনুযায়ী স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে দ্রুতগতিতে বিএস-১-এর পাশ দিয়ে চলে যায় ধ্বংসাবশেষটি। সংঘর্ষের আশঙ্কা কেটে যাওয়ার পর স্যাটেলাইটটিকে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিদেশি সহায়তা ছাড়াই দেশের প্রকৌশলীদের হিসাব-নিকাশ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি মহাকাশ প্রযুক্তি পরিচালনায় বাংলাদেশের সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বড় বিপদ থেকে মহাকাশে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

আপডেট সময় ১০:২০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের গর্বের স্যাটেলাইট ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ (বিএস-১)। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ট্র্যাকার’ থেকে গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে জরুরি সতর্কবার্তা আসে। এতে জানানো হয়, ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসছে।

মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা তাদের ধ্বংসাবশেষের সংঘর্ষের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। ২০০৯ সালে এমন এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সচল এবং রাশিয়ার একটি অকেজো স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে বাংলাদেশের বিএস-১।

সতর্কবার্তা পাওয়ার পর গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রকৌশলীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, পরবর্তী চার দিন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটে। স্যাটেলাইটটির অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগও ছিল খুব সীমিত।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে স্পেসএক্স স্যাটেলাইট সেবা চালু হচ্ছে মে মাসে, প্রস্তুত টেকনিক্যাল লঞ্চ

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা বস্তুটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি ধ্বংসাবশেষ। এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে বিএস-১ একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

এবার পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১-এর কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন প্রকৌশলীরা। সেই অনুযায়ী স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে দ্রুতগতিতে বিএস-১-এর পাশ দিয়ে চলে যায় ধ্বংসাবশেষটি। সংঘর্ষের আশঙ্কা কেটে যাওয়ার পর স্যাটেলাইটটিকে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিদেশি সহায়তা ছাড়াই দেশের প্রকৌশলীদের হিসাব-নিকাশ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি মহাকাশ প্রযুক্তি পরিচালনায় বাংলাদেশের সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।