ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সাইকেলে এভারেস্টের তিন পাস জয় বীর কুমারের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করে অনন্য কীর্তি গড়েছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইক্লিস্ট বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। তার দাবি, তিনি প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সাইক্লিস্ট হিসেবে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্ট অঞ্চলের কংমা লা, চো লা ও রেঞ্জো লা পাসের চূড়ায় পৌঁছেছেন।

অভিযানের সর্বশেষ ধাপে সোমবার (৫ অক্টোবর) নেপালের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬০ মিটার উচ্চতার রেঞ্জো লা পাস জয় করেন বীর কুমার।

এর আগে ১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে ৫ হাজার ৪২০ মিটার উচ্চতার চো লা পাস এবং ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাস জয় করেন তিনি।

আরও পড়ুন  জয় পেয়েছেন সাত নারী প্রার্থী

‘সি টু হিমালয়াস-এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৪ আগস্ট কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালের হিমালয় অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন বীর কুমার।

দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং উচ্চতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একে একে তিনটি পাসের চূড়ায় সাইকেল নিয়ে পৌঁছান তিনি। কাপ্তাইয়ের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা এই সাইক্লিস্ট দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এবারের অভিযানকে সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন তিনি।

অভিযান শেষে মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বীর কুমার বাসসকে বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—এটি আমার পাশে থাকা প্রত্যেক মানুষের। আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই আমার পথচলার শক্তি।’

তিনি বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে হিমালয়ের উচ্চতায় পৌঁছানো এবং এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করা তার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। পথটি সহজ ছিল না। বাংলাদেশের পতাকা ও নিজের এলাকার মানুষের ভালোবাসা কঠিন মুহূর্তগুলোতে তাকে সাহস জুগিয়েছে বলেও জানান তিনি।

কঠিন এই অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বীর কুমার।

তিনি আরও বলেন, তার এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য শুধু রেকর্ড সৃষ্টি নয়; সাইক্লিং, পরিবেশ সচেতনতা এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য।

কাপ্তাইয়ের এই তরুণ সাইক্লিস্টের অর্জনে স্থানীয়দের মধ্যেও আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বীর কুমারের সাফল্য দেশের তরুণদের সাইক্লিং ও অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক কার্যক্রমে আরও উৎসাহিত করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাইকেলে এভারেস্টের তিন পাস জয় বীর কুমারের

আপডেট সময় ০৫:৩০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করে অনন্য কীর্তি গড়েছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইক্লিস্ট বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। তার দাবি, তিনি প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সাইক্লিস্ট হিসেবে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্ট অঞ্চলের কংমা লা, চো লা ও রেঞ্জো লা পাসের চূড়ায় পৌঁছেছেন।

অভিযানের সর্বশেষ ধাপে সোমবার (৫ অক্টোবর) নেপালের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬০ মিটার উচ্চতার রেঞ্জো লা পাস জয় করেন বীর কুমার।

এর আগে ১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে ৫ হাজার ৪২০ মিটার উচ্চতার চো লা পাস এবং ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাস জয় করেন তিনি।

আরও পড়ুন  মেসির শেষ মুহূর্তের জাদুতে ইন্টার মায়ামির নাটকীয় জয়

‘সি টু হিমালয়াস-এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৪ আগস্ট কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালের হিমালয় অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন বীর কুমার।

দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং উচ্চতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একে একে তিনটি পাসের চূড়ায় সাইকেল নিয়ে পৌঁছান তিনি। কাপ্তাইয়ের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা এই সাইক্লিস্ট দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এবারের অভিযানকে সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন তিনি।

অভিযান শেষে মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বীর কুমার বাসসকে বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—এটি আমার পাশে থাকা প্রত্যেক মানুষের। আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই আমার পথচলার শক্তি।’

তিনি বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে হিমালয়ের উচ্চতায় পৌঁছানো এবং এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করা তার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। পথটি সহজ ছিল না। বাংলাদেশের পতাকা ও নিজের এলাকার মানুষের ভালোবাসা কঠিন মুহূর্তগুলোতে তাকে সাহস জুগিয়েছে বলেও জানান তিনি।

কঠিন এই অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বীর কুমার।

তিনি আরও বলেন, তার এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য শুধু রেকর্ড সৃষ্টি নয়; সাইক্লিং, পরিবেশ সচেতনতা এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য।

কাপ্তাইয়ের এই তরুণ সাইক্লিস্টের অর্জনে স্থানীয়দের মধ্যেও আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, বীর কুমারের সাফল্য দেশের তরুণদের সাইক্লিং ও অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক কার্যক্রমে আরও উৎসাহিত করবে।