ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19

ছবি সংগৃহীত

 

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে অপর্যাপ্ত মনে করায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।

আরও পড়ুন  একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট সাজা দাঁড়ায় ১০ বছর।

প্রসিকিউটর তামীম বলেন, আপিলে ১১টি গ্রাউন্ড তুলে ধরা হয়েছে। যেসব অভিযোগে ইনু খালাস পেয়েছেন, সেগুলোর কয়েকটিতেও সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্স অনুযায়ী অপরাধের ভয়াবহতা, গভীরতা ও ‘স্কেল অব দ্য অ্যাটাক’ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কত মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যাশা কী—এসব বিষয়ও আপিলে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর কথোপকথন, আন্দোলন দমনে পরামর্শ, কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডকে সত্য হিসেবে পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পরও ইনুকে ১০ বছরের সাজা দেওয়াকে ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

তামীম বলেন, ইনুর মতো বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার নির্দেশ একজন সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হতে পারে। আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সের ভিত্তিতে আপিলে এ বিষয়টিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একজন সামরিক কমান্ডার অধস্তনদের কোনো নির্দেশ দিলে তারা তা মানতে পারেন, আবার নাও পারেন। কিন্তু একজন বেসামরিক নেতা আদেশের পাশাপাশি বক্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

প্রসিকিউটর জানান, আপিলটি গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় ইনুকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, রায়ের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। আর ২১(৪) ধারায় আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন

আপডেট সময় ০১:০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে অপর্যাপ্ত মনে করায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।

আরও পড়ুন  একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট সাজা দাঁড়ায় ১০ বছর।

প্রসিকিউটর তামীম বলেন, আপিলে ১১টি গ্রাউন্ড তুলে ধরা হয়েছে। যেসব অভিযোগে ইনু খালাস পেয়েছেন, সেগুলোর কয়েকটিতেও সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্স অনুযায়ী অপরাধের ভয়াবহতা, গভীরতা ও ‘স্কেল অব দ্য অ্যাটাক’ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কত মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যাশা কী—এসব বিষয়ও আপিলে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর কথোপকথন, আন্দোলন দমনে পরামর্শ, কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডকে সত্য হিসেবে পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পরও ইনুকে ১০ বছরের সাজা দেওয়াকে ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

তামীম বলেন, ইনুর মতো বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার নির্দেশ একজন সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হতে পারে। আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সের ভিত্তিতে আপিলে এ বিষয়টিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একজন সামরিক কমান্ডার অধস্তনদের কোনো নির্দেশ দিলে তারা তা মানতে পারেন, আবার নাও পারেন। কিন্তু একজন বেসামরিক নেতা আদেশের পাশাপাশি বক্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

প্রসিকিউটর জানান, আপিলটি গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় ইনুকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, রায়ের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। আর ২১(৪) ধারায় আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।