প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা নিয়ে কমিটিতে ভিন্নমত
- আপডেট সময় ১২:১৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ সময় ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠকে ভিন্নমত এসেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির চতুর্থ বৈঠকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে কেউ কেউ মনে করেন, এভাবে একজন ব্যক্তির মেয়াদ সীমিত করে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করলে এবং জনগণ তাকে আবারও দায়িত্বে দেখতে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত—এমন মতামতও বৈঠকে এসেছে।
তবে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, দলটি এখনো সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বার্তা সংস্থা, সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাব ও মতামত দেন।
বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বৈঠক শেষে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাব ও মতামত নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা নিয়ে মতামতের পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষকে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি জানান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। পরে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।





















