দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম আধুনিক করবে সরকার
- আপডেট সময় ০২:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 24
দেশের শিল্পখাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যা ও সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমনির্ভর ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তুলনামূলক কম মূলধন বিনিয়োগে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব—এমন শিল্পখাতগুলোকে ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, এসব খাতে বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার শিল্পের তালিকায় এগুলো গুরুত্ব পাবে।
শিল্পখাতের বিস্তারের সঙ্গে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিটাক দক্ষ জনবল তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণ শেষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়াকে বিটাকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে বিটাকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ কর্মজীবনের শুরু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই শেখার শেষ ধাপ নয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাওয়া জ্ঞান ও শৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে নিজেদের দক্ষতা আরও বাড়ানোর দায়িত্ব প্রশিক্ষণার্থীদেরই নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও চাকরির সুযোগ পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে অর্জিত দক্ষতাকে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। পরে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
তিনি আরও জানান, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শুধু বিটাকের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, প্রশিক্ষণ শেষ করেই শেখার প্রক্রিয়া থেমে যায় না। প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় কর্মীদের নিয়মিত নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মানসিকতা থাকতে হবে।
কারিগরি শিক্ষাকে উচ্চশিক্ষার তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ মনে না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও নিয়োগপত্র তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী। ‘আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৭২২ জনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ৬৪২ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।























