ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 29

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর থাকবে এবং অপরাধ সংঘটিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। কোনো নাগরিক অপরাধের শিকার হলে বা নিরাপত্তাহীনতায় পড়লে প্রথমেই পুলিশের কাছে যান।

আরও পড়ুন  সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১২৮৪ জন

তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার বা আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা তৈরিতেও পুলিশকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ় এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হবে। জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পুলিশকে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বর্তমানে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল জালিয়াতি, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তি, তথ্য ও আধুনিক তদন্ত কৌশলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কাজ চলছে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালু করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা। এই আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। প্রাতিষ্ঠানিক, লেজিসলেটিভ ও প্রশাসনিক—এই তিন ধরনের সহায়তার মাধ্যমে এ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়টি অনুধাবনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং আইনের মধ্যে থেকে দ্রুত সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ পুলিশের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাহিনীর দক্ষ ও নিষ্ঠাবান সদস্যরা পুলিশকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলবেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও কল্যাণের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পদক তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি হলেও এর সঙ্গে আরও বড় দায়িত্বের অঙ্গীকারও জড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতে তাদের আরও বেশি সততা, সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্য রয়েছে। তাদের বিবেচনায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জনআকাঙ্ক্ষা ও ব্যাপক জনপ্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে সরকারের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। সরকার শাস্তি ও পুরস্কারের নীতিতে বিশ্বাস করে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবাইকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশকেও অপব্যবহার ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ ও বেআইনি নির্দেশ পালন করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে পুলিশ সদস্যদের সংশোধন এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা, দায়িত্বে অবহেলা করা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে গোপনে তথ্য দেওয়া বা অন্যভাবে সহযোগিতা করার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার পদ যাই হোক, জনপ্রত্যাশা অনুধাবনে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশার মতো আচরণ নয়, জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। সিনিয়র কর্মকর্তাদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশ দেন তিনি, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক বলে মনে হতে পারে। অধস্তনদেরও এ ধরনের আচরণে অনুমতি বা প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।

তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সৎ উদ্দেশ্যে বা ‘গুড ফেইথে’ ছোটখাটো ভুল হলে তা সেভাবেই বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, কোনো ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটিত হলে বিষয়টি শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ফৌজদারি আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু বিভাগীয় কার্যক্রম, তিরস্কার, লঘুদণ্ড বা গুরুদণ্ডের মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে—এমনটি ভাবার কারণ নেই। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইন অনুযায়ী তারও বিচার হবে।

২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী শর্ট কোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি পুলিশের জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পুলিশে শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর থাকবে এবং অপরাধ সংঘটিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। কোনো নাগরিক অপরাধের শিকার হলে বা নিরাপত্তাহীনতায় পড়লে প্রথমেই পুলিশের কাছে যান।

আরও পড়ুন  পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার বা আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা তৈরিতেও পুলিশকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ় এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হবে। জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পুলিশকে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বর্তমানে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল জালিয়াতি, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তি, তথ্য ও আধুনিক তদন্ত কৌশলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কাজ চলছে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালু করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা। এই আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। প্রাতিষ্ঠানিক, লেজিসলেটিভ ও প্রশাসনিক—এই তিন ধরনের সহায়তার মাধ্যমে এ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়টি অনুধাবনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং আইনের মধ্যে থেকে দ্রুত সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ পুলিশের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাহিনীর দক্ষ ও নিষ্ঠাবান সদস্যরা পুলিশকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলবেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও কল্যাণের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পদক তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি হলেও এর সঙ্গে আরও বড় দায়িত্বের অঙ্গীকারও জড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতে তাদের আরও বেশি সততা, সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্য রয়েছে। তাদের বিবেচনায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জনআকাঙ্ক্ষা ও ব্যাপক জনপ্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে সরকারের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। সরকার শাস্তি ও পুরস্কারের নীতিতে বিশ্বাস করে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবাইকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশকেও অপব্যবহার ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ ও বেআইনি নির্দেশ পালন করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে পুলিশ সদস্যদের সংশোধন এবং জনআস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা, দায়িত্বে অবহেলা করা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে গোপনে তথ্য দেওয়া বা অন্যভাবে সহযোগিতা করার তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার পদ যাই হোক, জনপ্রত্যাশা অনুধাবনে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশার মতো আচরণ নয়, জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। সিনিয়র কর্মকর্তাদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশ দেন তিনি, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক বলে মনে হতে পারে। অধস্তনদেরও এ ধরনের আচরণে অনুমতি বা প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।

তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সৎ উদ্দেশ্যে বা ‘গুড ফেইথে’ ছোটখাটো ভুল হলে তা সেভাবেই বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, কোনো ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটিত হলে বিষয়টি শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ফৌজদারি আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু বিভাগীয় কার্যক্রম, তিরস্কার, লঘুদণ্ড বা গুরুদণ্ডের মধ্যেই ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে—এমনটি ভাবার কারণ নেই। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইন অনুযায়ী তারও বিচার হবে।

২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী শর্ট কোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি পুলিশের জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।