বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ: চামড়া নয়, সিং বেশি দামি
- আপডেট সময় ১১:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 30
আজ ২২ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব গন্ডার দিবস। গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই প্রাণী রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর দিনটি পালিত হয়। ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড সাউথ আফ্রিকা দিনটিকে বিশ্ব গন্ডার দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস পালন করা হচ্ছে।
প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে গণ্ডার। কিন্তু মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে প্রাণীটি। অবৈধ শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজননের সুযোগ কমে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্বে সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার গণ্ডার টিকে আছে। পাঁচ প্রজাতির মধ্যে চারটিই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণ্ডার ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে সাদা গণ্ডার রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭৫২টি। কালো গণ্ডার রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭৮৮টি। একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭৫টি। জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিশেষ করে সুমাত্রান গণ্ডার বিলুপ্তির অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।
মূলত শিংয়ের জন্য শিকারিরা গণ্ডার হত্যা করে। গণ্ডারের শিং কেরাটিন নামের একটি উপাদানে তৈরি। গণ্ডারের সিং বিশ্বের সবচেয়ে দামি বস্তুগলোর একটি। এমনকি গন্ডারের চামড়ার চেয়ে তার শিং বহুগুণ বেশি মূল্যবান। আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে গণ্ডারের শিং পৃথিবীর অন্যতম দামি বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। যার মূল্য অনেক সময় সোনা, হীরা বা কোকেনের চেয়েও বেশি হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক কালো বাজারে ১ কেজি গণ্ডারের শিংয়ের দাম প্রায় ৬০,০০০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকারও বেশি। আকার এবং প্রজাতিভেদে একটি পূর্ণাঙ্গ শিংয়ের দাম কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেই তুলনায় গণ্ডারের চামড়ার মূল্য অনেক কম। প্রতি কেজিতে মাত্র কয়েকশো ডলার।
গণ্ডারের শিং বিভিন্ন প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি থাকলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তারপরও শিংয়ের চাহিদার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গণ্ডার অবৈধ শিকারের শিকার হয়।
গণ্ডারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোও সহজ নয়। আফ্রিকান গন্ডারের গর্ভধারণের সময় প্রায় ১৬ মাস। সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয় তারা। ফলে অতিরিক্ত শিকার বা অন্য কোনো কারণে গন্ডারের সংখ্যা কমে গেলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয় না।
তবে গণ্ডার সংরক্ষণে কিছু আশার খবরও রয়েছে। সংরক্ষণ উদ্যোগের কারণে কিছু অঞ্চলে কালো গন্ডার ও একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা বেড়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় গণ্ডারকে তাদের পুরোনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে গণ্ডারের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে ভবিষ্যতে গণ্ডার পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাই বিশ্ব গণ্ডার দিবসের মূল বার্তা হলো- গণ্ডার বাঁচান, প্রকৃতি বাঁচান।






















