রাজধানীতে গৃহশিক্ষক শিশু অপহরণের দায়ে গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি
- আপডেট সময় ১০:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 34
রাজধানীর শ্যামপুরের ধোলাইরপাড় এলাকা থেকে সাত বছরের শিশু আব্দুর রহমান তিহামকে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক মো. জোবায়ের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জোবায়েরকে গ্রেপ্তার করে শ্যামপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক সৈয়দ সালাহউদ্দিন।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রাসেল মুন বাদী হয়ে শ্যামপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮ ধারায় মামলা করেন। মামলায় জোবায়েরকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে শিশুটির বাবা উল্লেখ করেন, জোবায়ের বাসায় গিয়ে আরবি পড়ানোর কথা জানিয়ে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ লিফলেট টানিয়ে বিজ্ঞাপন দেন। ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১০ দিন তিনি তার ছেলেকে আরবি পড়ান। এ বাবদ এক মাসের প্রাইভেট পড়ানোর জন্য তিন হাজার টাকা নেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ৭ সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক ৫টা ৩৫ মিনিটে আব্দুর রহমান তিহাম খেলাধুলার জন্য পশ্চিম ধোলাইপাড়ের পান্থ নিবাস, কামাল সাহেবের বাড়ির মোহনা ভিলার সামনে পাকা সড়কে বের হয়। এ সময় জোবায়ের শিশুটির কাছে গিয়ে তার ছোট বোন আফরান আনজুম অসুস্থ বলে জানায় এবং তার জন্য ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে।
অভিযোগ করা হয়েছে, এভাবে শিশুটিকে ভুল বুঝিয়ে কৌশলে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান জোবায়ের। প্রায় পাঁচ মিনিট পর, বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে বাসায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জোবায়ের শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশের সহায়তা চান।
এজাহারে বলা হয়, শিশুটির সন্ধানে পুলিশসহ পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করার সময় ঘটনার দিন বিকাল আনুমানিক ৬টা ৩৩ মিনিটে জোবায়ের শিশুটির বাবার মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। তখন তিনি শিশুটি তার হেফাজতে রয়েছে জানিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
পরিবারের দাবি, এরপর একই দিনে জোবায়ের মোট ২৯ বার ফোন করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলেন। টাকা না দিলে শিশুটির বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
একপর্যায়ে জোবায়ের শিশুটিকে ডিএমপির কদমতলী থানাধীন শনির আখড়া আরএস টাওয়ারের সামনে রেখে দ্রুত চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবার।























