ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন রণতরিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে ইরানি মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 44

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইরানের কট্টর রক্ষণশীল মহলে উল্লাস দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তেহরানের কট্টরপন্থিরা ঘটনাটিকে বড় ধরনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন।

দৈনিক হামশাহরি হামলাটিকে ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে মার্কিন রণতরিগুলোতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুন  ‎যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান চীন ও পাকিস্তানের

হামশাহরি আরও সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার কারণে মার্কিন নৌবহর আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে দৈনিক কুদস বলেছে, চলমান উত্তেজনার অর্থ হলো শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাংকার নয়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজও এখন ইরানি বাহিনীর সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ১ সেপ্টেম্বর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেছে দৈনিক এতেমাদ। হামলায় স্ত্রীকে হারানো আলি তাহেরি অভিযোগ করেন, স্থানীয় ক্লিনিকে জরুরি অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় তার ৪৩ বছর বয়সি স্ত্রী মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দা বেহরোজ মাল্লাহি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দলের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারাই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শিশুদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত মনস্তাত্ত্বিক সহায়তাও নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোটের আহ্বান জানিয়ে কট্টরপন্থিদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

রুহানি বলেন, জনগণ যদি আরও ২০ বছর পরাশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে তা ভালো। তবে তারা যদি অন্য কোনো পথ বেছে নিতে চায়, সেটিও মেনে নেওয়া উচিত।

রুহানির এই বক্তব্যের পর কাইহান পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাবিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রুহানির অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যারা যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যে মিথ্যা বিভাজন তৈরি করে, তারা মূলত শক্তিশালী ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করাতে চায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন রণতরিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে ইরানি মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস

আপডেট সময় ০৯:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইরানের কট্টর রক্ষণশীল মহলে উল্লাস দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তেহরানের কট্টরপন্থিরা ঘটনাটিকে বড় ধরনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন।

দৈনিক হামশাহরি হামলাটিকে ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে মার্কিন রণতরিগুলোতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তায় ইরানের বিশেষ নির্দেশনা

হামশাহরি আরও সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার কারণে মার্কিন নৌবহর আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে দৈনিক কুদস বলেছে, চলমান উত্তেজনার অর্থ হলো শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাংকার নয়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজও এখন ইরানি বাহিনীর সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ১ সেপ্টেম্বর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেছে দৈনিক এতেমাদ। হামলায় স্ত্রীকে হারানো আলি তাহেরি অভিযোগ করেন, স্থানীয় ক্লিনিকে জরুরি অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় তার ৪৩ বছর বয়সি স্ত্রী মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দা বেহরোজ মাল্লাহি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দলের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারাই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শিশুদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত মনস্তাত্ত্বিক সহায়তাও নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোটের আহ্বান জানিয়ে কট্টরপন্থিদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

রুহানি বলেন, জনগণ যদি আরও ২০ বছর পরাশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে তা ভালো। তবে তারা যদি অন্য কোনো পথ বেছে নিতে চায়, সেটিও মেনে নেওয়া উচিত।

রুহানির এই বক্তব্যের পর কাইহান পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাবিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রুহানির অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যারা যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যে মিথ্যা বিভাজন তৈরি করে, তারা মূলত শক্তিশালী ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করাতে চায়।