‘বই মানুষকে চিন্তার শক্তি দেয়, ভাবনাশক্তি বাড়ায়’ – খাদ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:৪২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম মন্তব্য করেছেন যে বই কেবল জ্ঞান বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের ভাবনাশক্তি বাড়ায়, ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেয়। তার মতে, অতীত সম্পর্কে ধারণা না থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবন করা কঠিন, এবং বর্তমান না বুঝে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করাও সম্ভব নয়। এ কারণে নিয়মিত পড়াশোনা, জ্ঞানার্জন ও চিন্তাচর্চাকে তিনি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিএনপির প্রতিষ্ঠার ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে চলমান জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬-এর পঞ্চম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বইমেলার মতো আয়োজন সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাঠাগারকে তিনি জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করেন এবং একে তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার একটি কার্যকর উপায় বলে মনে করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই বইমেলা পাঠচর্চার এই প্রয়াসকে আরও প্রসারিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খাদ্যমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ধারার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র গঠনের চিন্তাভাবনা জানার জন্য তার রচিত গ্রন্থাবলি পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘আমার রাজনীতির রূপরেখা’ বই দুটির উল্লেখ করেন, যেগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়কাল, তার ব্যক্তিজীবন ও চিন্তাধারা এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস বুঝতে সহায়ক বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, একটি বই মানুষকে অতীতের সঙ্গে পরিচিত করায়, বর্তমান বোঝার সক্ষমতা দেয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার দ্বার উন্মোচন করে। এই প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করে খাদ্যমন্ত্রী জানান, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক বইটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা সম্পর্কে জানার একটি ভালো সুযোগ করে দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগ্রহী পাঠকদের এ ধরনের বই পড়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানান খাদ্যমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও মানবিক একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তিনি জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা, জ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল ভালো হলেই চলবে না—নতুন প্রজন্মকে জানতে, বুঝতে, প্রশ্ন তুলতে এবং বিশ্ব সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে, আর এসবের অন্যতম মাধ্যম হলো বই।
নিজের বাবার লেখা একটি বইয়ের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেই বইটি পড়ার সময় মনে হয় বাবা যেন তার পাশেই রয়েছেন এবং চারপাশ থেকে তাকে দেখছেন।
অনুষ্ঠানে বাবার লেখা বই থেকে একটি অংশ পাঠ করে তিনি জানান, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময়ে মেজর জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, যখন মানুষ একজন সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক নেতার প্রত্যাশায় ছিল। তিনি জিয়াউর রহমানের সাধারণ জীবনযাপন, বিলাসিতার প্রতি অনীহা এবং জনকল্যাণমুখী চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং তার সততা সম্পর্কিত কিছু স্মৃতিচারণও করেন।
খাদ্যমন্ত্রীর ভাষায়, বাংলাদেশের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে একই পরিবারের তিনজন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেশবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে দেশকে সংকট থেকে উত্তরণে সহায়তা করেছেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারে ১০০টি বই দান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন ড. মাহদী আমীন, যিনি দেশের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও মননশীলতা বিকাশে বই পড়ার তাৎপর্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সংসদ সদস্য মাহামুদা হাবিবা, অধ্যাপক ড. হারুন আল রশিদ এবং সাঈদ মাহমুদ জুয়েল।























