নেপালে নিহতদের স্মরণে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক
- আপডেট সময় ১১:৫৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 32
হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে জাতীয় শোক দিবস পালন করছে নেপাল। দুর্যোগের ১৩তম দিনে এই শোক পালন করা হচ্ছে, যে দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি।
গত ২৬ আগস্ট চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলা ও তার আশপাশের অঞ্চলে আকস্মিক এই বন্যা আঘাত হানে। হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে বরফ ও পাথরধসের জেরেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়, যার ফলে উত্তর ও মধ্য নেপালে ব্যাপক জীবনহানির পাশাপাশি বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্যোগের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। দুর্গম এলাকাগুলোতে তাদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে।
নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৭ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনটি শোক প্রকাশ ও প্রয়াতদের স্মরণের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের মধ্য দিয়ে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সোমবার দেশের সব সরকারি দপ্তর এবং বিদেশে অবস্থিত নেপালি দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলাসহ ভোতেকোশি এবং ত্রিশূলী নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এই দুর্যোগে অন্তত ৩২ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাড়ি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি বহু মানুষের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং জরুরি অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই উদ্ধারকাজে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে






















