দিল্লিতে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার করে চলছিল ছাত্রাবাস
- আপডেট সময় ১০:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 26
প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ একটি ভবন কয়েক মাস আগেও ছিল প্রায় পরিত্যক্ত। পরে সেটি সংস্কার করে পেইং-গেস্ট (পিজি) হোস্টেলে রূপ দেওয়া হয়। আর সেই ভবনই ধসে পড়েছে দিল্লির সত্য নিকেতনে। এতে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সত্য নিকেতনের ওই ভবনটি ধসে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়। খবর পেয়ে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় সত্য নিকেতন ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পিজি ও ভাড়া বাসায় থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি আবাসনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব আবাসনের ভাড়া অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডুসু) সভাপতি আরিয়ান মান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও দিল্লি পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতি ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে অবহিত করেন।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সোলাঙ্কিও নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনডিআরএফ ও দিল্লি পুলিশের উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।
এদিকে ভবনধসের দিনই দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি) কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করে এবিভিপি। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মিছিল করে এমসিডি কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে যান ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সভাপতি বিনোদ ঝাখরও। ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন। পরে এনএসইউআইয়ের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। তবে উদ্ধারকাজেও সংগঠনটির কর্মীরা সহযোগিতা করেন। আহতদের দেখতে পরে এআইআইএমএসে যান বিনোদ ঝাখর।
এনএসইউআইয়ের নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অখিলেশ যাদব এনডিটিভিকে বলেন, ঘটনার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
ভবনধসের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভবনের মালিক আনন্দ বনসালকে খুঁজছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনটি কয়েক মাস আগেও পরিত্যক্তপ্রায় ছিল। পরে সেটিকে সংস্কার করে পিজি হোস্টেলে রূপ দেওয়া হয়।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, আগে খালি করে দেওয়া একটি ভবন কীভাবে আবার বসবাসের জন্য ব্যবহার করা হলো। সেখানে মানুষ ওঠানোর আগে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সত্য নিকেতনের এই দুর্ঘটনা দিল্লির বেসরকারি আবাসনগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, সামনে ডুসু নির্বাচন থাকায় ভবনধসের ঘটনাটি ক্যাম্পাসের রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবিভিপি ও এনএসইউআইয়ের মধ্যে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই দুই সংগঠন ঘটনাস্থলে সক্রিয় হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য উভয় সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেল্পলাইন নম্বরও দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, সত্য নিকেতনের ভবনধস শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা, বেসরকারি ভবনের কাঠামোগত অনুমোদন ও তদারকি এবং নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
সূত্র: এনডিটিভি





















