ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

রোববার ৩০ আগস্ট সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৩০ জন

তিনি বলেন, যেসব স্থানে মশার লার্ভা জন্ম নেয়, সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন নয়, লার্ভার উৎস ধ্বংসের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় এ বিষয়ে কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

রোববার ৩০ আগস্ট সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে করনীয় ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা

তিনি বলেন, যেসব স্থানে মশার লার্ভা জন্ম নেয়, সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন নয়, লার্ভার উৎস ধ্বংসের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় এ বিষয়ে কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।