ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :

কারিকুলামে বড় সংস্কার আসছে: মাহদী আমিন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও খেলাধুলাসহ নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের শিক্ষা কাঠামোর পরিকল্পনা, কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ নিয়ে কথা বলেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সময়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে যতটা সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বিএনপি ক্ষমতা পেলে সবাই বিনা মূল্যে ইন্টারনেট পাবে: মাহদী আমিন

মাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন এবং মূল্যায়নের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখাতে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান সরকার সেই পথ বন্ধ করেছে এবং এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা এবার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের জিপিএ ও প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে।

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নীতি তৈরির কথাও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে দেখা হবে না।

তিনি জানান, তাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এতে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই কার্যক্রম প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি। এতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নয়নের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দ বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান।

গ্রাম ও শহরের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতা চালুর কথাও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। এর মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ রয়েছে।

তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ পাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়; দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

কারিকুলামে বড় সংস্কার আসছে: মাহদী আমিন

আপডেট সময় ০৩:৩২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও খেলাধুলাসহ নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের শিক্ষা কাঠামোর পরিকল্পনা, কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ নিয়ে কথা বলেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সময়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে যতটা সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে সমাধান সম্ভব নয়: মাহদী আমিন

মাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন এবং মূল্যায়নের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখাতে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান সরকার সেই পথ বন্ধ করেছে এবং এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা এবার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের জিপিএ ও প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে।

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নীতি তৈরির কথাও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে দেখা হবে না।

তিনি জানান, তাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এতে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই কার্যক্রম প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি। এতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নয়নের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দ বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান।

গ্রাম ও শহরের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতা চালুর কথাও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। এর মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ রয়েছে।

তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ পাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়; দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।