ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধীদের প্রতিবাদ পুলিশে ৪ হাজার এসআই, ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য ‘মক্কার যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে অন্য কারও উদ্বেগের অবকাশ নেই’ সালমান শাহ হত্যা মামলা, ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কমিশন: সিইসি আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীনা কোম্পানি ১৫ মামলায় খালাস মির্জা আব্বাস আশ্রমের আড়ালে মানবিকতার ব্যবসা, সাংবাদিক পিটিয়ে মিল্টন সমাদ্দারের বুনো উল্লাস চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আজ নেপালে নিখোঁজ চার শতাধিক, বন্যার নেপথ্য কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা

১৫ মামলায় খালাস মির্জা আব্বাস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 22

ছবি সংগৃহীত

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৮টি সরকারি বাড়ি বিনা দরপত্রে বিক্রির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলার প্রতিটিতে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন  মানবতাবিরোধী অপরাধ: আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম খালাস

অন্য আসামিরা হলেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।

এ ছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আহমেদ আকবর সোবহানকে দুটি করে মামলায় আসামি করা হয়। মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তারাও খালাস পেয়েছেন।

দুদক ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলাগুলো দায়ের করে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হলে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগানসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা মোট ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির জন্য নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ ছিল, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের এসব বাড়ি পাইয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এর মাধ্যমে আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুবিধা দেন এবং সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার ক্ষতি করেন।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া তুলনামূলক বেশি দর বিবেচনায় না নিয়ে রাজউকের মাধ্যমে কম মূল্যের দরপত্রে বাড়িগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করার অভিযোগও আনা হয়।

এ ঘটনায় মির্জা আব্বাসসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এরপর বৃহস্পতিবার আদালত ১৫ মামলার রায় ঘোষণা করে মির্জা আব্বাসসহ আসামিদের খালাস দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৫ মামলায় খালাস মির্জা আব্বাস

আপডেট সময় ০৫:০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৮টি সরকারি বাড়ি বিনা দরপত্রে বিক্রির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলার প্রতিটিতে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন  শীর্ষ আদালতে খালাস পেলেন জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম

অন্য আসামিরা হলেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।

এ ছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আহমেদ আকবর সোবহানকে দুটি করে মামলায় আসামি করা হয়। মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তারাও খালাস পেয়েছেন।

দুদক ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলাগুলো দায়ের করে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হলে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগানসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা মোট ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির জন্য নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ ছিল, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের এসব বাড়ি পাইয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এর মাধ্যমে আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুবিধা দেন এবং সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার ক্ষতি করেন।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া তুলনামূলক বেশি দর বিবেচনায় না নিয়ে রাজউকের মাধ্যমে কম মূল্যের দরপত্রে বাড়িগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করার অভিযোগও আনা হয়।

এ ঘটনায় মির্জা আব্বাসসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এরপর বৃহস্পতিবার আদালত ১৫ মামলার রায় ঘোষণা করে মির্জা আব্বাসসহ আসামিদের খালাস দেন।