আশ্রমের আড়ালে মানবিকতার ব্যবসা, সাংবাদিক পিটিয়ে মিল্টন সমাদ্দারের বুনো উল্লাস
- আপডেট সময় ০৪:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
ঢাকার সাভারে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ নামের একটি আশ্রমে বেওয়ারিশ এক বৃদ্ধাকে পৌঁছে দিতে গিয়ে সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আশ্রমে পৌঁছানোর পর তাদের আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
ঘটনার বিচার এবং আশ্রমটির কথিত অনিয়মের তদন্তের দাবিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার ঢাকা মেইলের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ইলিয়াস হোসেন ও উজান টিভির কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে উদ্ধার করা এক অসহায় বৃদ্ধাকে নিয়ে তারা সাভারের ওই আশ্রমে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর মিল্টন সমাদ্দার ও তার কর্মীরা তাদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
একপর্যায়ে ইলিয়াস হোসেন ও নাহিদ হাসানের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তাদের দীর্ঘ সময় আশ্রমের ভেতরে আটকে রেখে মারধর ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবি, ঘটনার সময় মিল্টন সমাদ্দারের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিং তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আশ্রমের কার্যক্রমে সরকারি তদারকি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘটনার সূত্রপাত বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়। তাদের ভাষ্য, গত ২৩ আগস্ট মাথায় গভীর ক্ষত ও পোকায় আক্রান্ত অবস্থায় এক বেওয়ারিশ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নাহিদ হাসান জানান, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুদানে ওই বৃদ্ধাকে ঢাকায় মিল্টন সমাদ্দারের প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আশ্রম কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই ওই বৃদ্ধাকে বিনামূল্যে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ জন্য প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা খরচ দাবি করা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিল্টন সমাদ্দার তাদের মারধর করেন এবং জোরপূর্বক ভুল স্বীকার করে ভিডিও ধারণ করেন বুনো উল্লাসে মেতে উঠে।
মিল্টন সমাদ্দারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ওই ভিডিওতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তারা।




















