ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত,‘ইনভেস্ট বাংলাদেশের’ যাত্রা শুরু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 28

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামোর যাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মাধ্যমে ওই দিন থেকেই নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আইনগতভাবে কার্যকর হয়।

আরও পড়ুন  বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে শেয়ার বিক্রির নিয়ম শিথিল

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

তবে নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামেই পরিচালিত হবে। নতুন টিম ও উইং গঠনসহ বাকি প্রক্রিয়াগুলো ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কয়েক মাসের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করায় তারা আনন্দিত। বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি একক ফ্রন্ট ডেস্কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রয়োজন থেকেই তিন প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাহিয়ান রহমান বলেন, নতুন কর্তৃপক্ষকে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক সেবাকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এর ফলে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা আরও সমন্বিত, নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্যভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপনের সুযোগও আইনে রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যান একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা।

একীভূত হওয়ার ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথিপত্র, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। একই সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগসংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত,‘ইনভেস্ট বাংলাদেশের’ যাত্রা শুরু

আপডেট সময় ০৩:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

 

বাংলাদেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামোর যাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মাধ্যমে ওই দিন থেকেই নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আইনগতভাবে কার্যকর হয়।

আরও পড়ুন  বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে শেয়ার বিক্রির নিয়ম শিথিল

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।

তবে নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামেই পরিচালিত হবে। নতুন টিম ও উইং গঠনসহ বাকি প্রক্রিয়াগুলো ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কয়েক মাসের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করায় তারা আনন্দিত। বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি একক ফ্রন্ট ডেস্কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রয়োজন থেকেই তিন প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাহিয়ান রহমান বলেন, নতুন কর্তৃপক্ষকে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক সেবাকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এর ফলে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা আরও সমন্বিত, নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্যভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপনের সুযোগও আইনে রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যান একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা।

একীভূত হওয়ার ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথিপত্র, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। একই সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগসংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।