ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

লোকসভা আসন নিয়ে মোদিকে বিজয়ের ৩ দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

ছবি: সংগৃহীত

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়, যিনি থালাপতি বিজয় নামেও পরিচিত। লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থায়ী রাখা, রাজ্যগুলোর বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখা এবং আগামী লোকসভা ও পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মোদিকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি জানান বিজয়। চিঠির সঙ্গে তামিলনাড়ু বিধানসভায় বুধবার গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়।

তামিলনাড়ু বিধানসভার ওই প্রস্তাবে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, আগামী জনগণনার পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে, নতুন আসন বণ্টনে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া অন্যায্য হবে বলে মনে করছে রাজ্যটি।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সের পারমাণবিক অপরাধের দায় স্বীকারের দাবি আলজেরিয়ার

চিঠিতে বিজয় লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ রাখার পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আসনসংখ্যাও অপরিবর্তিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তামিলনাড়ু বিধানসভায় আলোচনার সময় বলা হয়, নতুন জনসংখ্যার তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর আসন কমে যেতে পারে। বিপরীতে জনসংখ্যা বেশি এমন উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আসন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৯৬৭ সালের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। সে সময় সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর তামিলনাড়ুর লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমে ৩৯ হয়েছিল বলে বিধানসভায় উল্লেখ করা হয়।

তামিলনাড়ু সরকারের যুক্তি, ১৯৭১ সালের পরের জনসংখ্যার পরিসংখ্যানকে ভিত্তি করে নতুন করে আসন নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া ন্যায্য হবে না বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও মোদির কাছে তুলে ধরেছেন বিজয়। আগামী লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।

বিজয়ের এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও গুরুত্ব পেয়েছে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপাত কমে যেতে পারে।

বিজয়ের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থায়ী রাখা, রাজ্যভিত্তিক বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখা এবং আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা। এখন এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

লোকসভা আসন নিয়ে মোদিকে বিজয়ের ৩ দাবি

আপডেট সময় ০৭:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়, যিনি থালাপতি বিজয় নামেও পরিচিত। লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থায়ী রাখা, রাজ্যগুলোর বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখা এবং আগামী লোকসভা ও পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মোদিকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি জানান বিজয়। চিঠির সঙ্গে তামিলনাড়ু বিধানসভায় বুধবার গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়।

তামিলনাড়ু বিধানসভার ওই প্রস্তাবে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, আগামী জনগণনার পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে, নতুন আসন বণ্টনে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া অন্যায্য হবে বলে মনে করছে রাজ্যটি।

আরও পড়ুন  ১০ দফা দাবি আদায়ে তৎপর পেট্রল পাম্প-ট্যাংকলরি মালিকরা, আলটিমেটাম ঘোষণা

চিঠিতে বিজয় লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ রাখার পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আসনসংখ্যাও অপরিবর্তিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তামিলনাড়ু বিধানসভায় আলোচনার সময় বলা হয়, নতুন জনসংখ্যার তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর আসন কমে যেতে পারে। বিপরীতে জনসংখ্যা বেশি এমন উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আসন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৯৬৭ সালের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। সে সময় সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর তামিলনাড়ুর লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমে ৩৯ হয়েছিল বলে বিধানসভায় উল্লেখ করা হয়।

তামিলনাড়ু সরকারের যুক্তি, ১৯৭১ সালের পরের জনসংখ্যার পরিসংখ্যানকে ভিত্তি করে নতুন করে আসন নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া ন্যায্য হবে না বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও মোদির কাছে তুলে ধরেছেন বিজয়। আগামী লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।

বিজয়ের এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও গুরুত্ব পেয়েছে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপাত কমে যেতে পারে।

বিজয়ের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থায়ী রাখা, রাজ্যভিত্তিক বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখা এবং আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা। এখন এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।