লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ছাড়া আপাতত উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:৫১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 0
এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, এফএসআরইউ সচল না থাকায় নতুন করে গ্যাস উত্তোলন বা বিদ্যমান গ্যাস খালাস করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাসও খালাস করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই চলমান সংকটের সূত্রপাত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সংকট নিরসনে সরকারের করণীয় সীমিত। নতুন করে দ্রুত গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব নয়, আবার এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত আমদানি করা এলএনজিও স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রকৌশলীদের এফএসআরইউ মেরামতের কাজ শেষ করার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী। পাশাপাশি কম লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় যতটা সম্ভব গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান গ্যাস ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে এফএসআরইউ মেরামতের কাজ শেষ হওয়া এবং লোডশেডিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা যুক্ত রয়েছেন। মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। এ জন্য কারিগরি সমন্বয়ের কারণে পুরো সিস্টেম টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখতে হতে পারে। এতে ওই সময় দেশে সাময়িকভাবে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট কমাতে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস কারখানায় সরবরাহের জন্য একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কনটেইনারের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।



















