ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ওঁকে আবার কে গুরুত্ব দেয়? কঙ্গনার কটাক্ষের জবাবে অভিজিৎ দীপক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেত্রী ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের ‘আবর্জনার প্রজন্ম’, ‘কুৎসিত’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য করার পর এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার মন্তব্য, “ওকে আবার সিরিয়াসলি নেয় কে?”

বুধবার (২৯ জুলাই) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেন-জেড প্রজন্মকে নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন কঙ্গনা রানাউত। বিতর্কের পর একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং একাংশের সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

ভিডিওতে কঙ্গনা দাবি করেন, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় কিছু বিক্ষোভকারীর আচরণ ছিল অশালীন ও অনৈতিক। তার ভাষ্য, প্রকাশ্য স্থানে শিশু, নারী ও প্রবীণদের সামনে অশোভন ভাষা বা আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন  কঙ্গনার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বোর্ডের অভিযোগ: ‘বিলের সত্যতা অস্বীকার’

এদিকে কঙ্গনার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “ওকে আবার সিরিয়াসলি নেয় কে?”

কঙ্গনা আরও বলেন, সমাজে বসবাসের ক্ষেত্রে সংবিধান ও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তার একটি সীমারেখা রয়েছে এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।

তিনি দাবি করেন, পুরো জেন-জেড প্রজন্মকে তিনি কখনোই আক্রমণ করেননি। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল তরুণ-তরুণীদের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের মতো স্টার্টআপ এবং কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে যাওয়া তরুণদের উদাহরণ তুলে ধরে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে আন্দোলনের সময় দেওয়া কিছু স্লোগানেরও সমালোচনা করেন কঙ্গনা। তার ভাষ্য, অনেক মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে নেতা, অভিভাবক ও অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। তাই তাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক বক্তব্যে ভদ্রতা ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, এই বিতর্কে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন গায়ক ও সুরকার বিশাল দাদলানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে, যদিও তিনি কঙ্গনার নাম উল্লেখ করেননি, তবে প্রশ্ন তুলেছেন—আন্দোলনকারীদের ভাষা নিয়ে আলোচনা হলেও তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে একইভাবে কেন আলোচনা হচ্ছে না। তার মতে, শুধু স্লোগানের ভাষা নয়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও সামগ্রিক পরিস্থিতিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ওঁকে আবার কে গুরুত্ব দেয়? কঙ্গনার কটাক্ষের জবাবে অভিজিৎ দীপক

আপডেট সময় ১২:২৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ভারতে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেত্রী ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের ‘আবর্জনার প্রজন্ম’, ‘কুৎসিত’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য করার পর এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার মন্তব্য, “ওকে আবার সিরিয়াসলি নেয় কে?”

বুধবার (২৯ জুলাই) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেন-জেড প্রজন্মকে নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন কঙ্গনা রানাউত। বিতর্কের পর একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং একাংশের সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

ভিডিওতে কঙ্গনা দাবি করেন, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় কিছু বিক্ষোভকারীর আচরণ ছিল অশালীন ও অনৈতিক। তার ভাষ্য, প্রকাশ্য স্থানে শিশু, নারী ও প্রবীণদের সামনে অশোভন ভাষা বা আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন  কঙ্গনার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বোর্ডের অভিযোগ: ‘বিলের সত্যতা অস্বীকার’

এদিকে কঙ্গনার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “ওকে আবার সিরিয়াসলি নেয় কে?”

কঙ্গনা আরও বলেন, সমাজে বসবাসের ক্ষেত্রে সংবিধান ও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তার একটি সীমারেখা রয়েছে এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।

তিনি দাবি করেন, পুরো জেন-জেড প্রজন্মকে তিনি কখনোই আক্রমণ করেননি। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল তরুণ-তরুণীদের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের মতো স্টার্টআপ এবং কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে যাওয়া তরুণদের উদাহরণ তুলে ধরে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে আন্দোলনের সময় দেওয়া কিছু স্লোগানেরও সমালোচনা করেন কঙ্গনা। তার ভাষ্য, অনেক মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে নেতা, অভিভাবক ও অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। তাই তাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক বক্তব্যে ভদ্রতা ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, এই বিতর্কে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন গায়ক ও সুরকার বিশাল দাদলানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে, যদিও তিনি কঙ্গনার নাম উল্লেখ করেননি, তবে প্রশ্ন তুলেছেন—আন্দোলনকারীদের ভাষা নিয়ে আলোচনা হলেও তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে একইভাবে কেন আলোচনা হচ্ছে না। তার মতে, শুধু স্লোগানের ভাষা নয়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও সামগ্রিক পরিস্থিতিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।