রাতভর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- আপডেট সময় ১০:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 17
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হামলার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশ ও দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম। একই সঙ্গে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে হামলা শুরু হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর প্রদেশেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে পারমাণবিক স্থাপনাটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
আইআরআইবি খুজেস্তান প্রদেশের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, আবাদানের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় মার্কিন হামলা হয়েছে। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বান্দর আব্বাস, কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে প্রদেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিক শহরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ফার্স প্রদেশের কাজরুন শহরের উপকণ্ঠেও বিমান হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাসনিম আরও জানিয়েছে, কিশ দ্বীপে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, দ্বীপটির বিমানবন্দর এবং ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, কেশমে একটি আবাসিক ভবনে হামলার পর দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাতে জানানো হয়, চাহ-তাঙ্গো এলাকার ওই ভবনটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে তাসনিম জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এতে শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া শাদেগান, আরভান্দকেনার ও আবাদান শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মার্কিন বাহিনী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর প্রতি বিদ্যমান হুমকি কমাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পরও ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
























