ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

শাপলার মা/মলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রে/প্তারের আদেশ ট্রাইব্যুনালের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুর ১টার পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আরও পড়ুন  সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৫৪২

এর আগে ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

এ ছাড়া একই মামলার আরেক আসামি হাসানুল হক ইনু অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক।

প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো এবং নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত এসব ঘটনা হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, গণহত্যা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাপলার মা/মলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রে/প্তারের আদেশ ট্রাইব্যুনালের

আপডেট সময় ০৪:৩৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুর ১টার পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আরও পড়ুন  মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার শয়ন গ্রেপ্তার

এর আগে ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।

এ ছাড়া একই মামলার আরেক আসামি হাসানুল হক ইনু অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক।

প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো এবং নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত এসব ঘটনা হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, গণহত্যা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।