ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

ভারতে আবার করণার হানা: ২ জনের মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / 19

ছবি সংগৃহীত

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু এবং নতুন করে আটজন পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্যে এই মৃত্যুর ঘটনার জেরে ওড়িশা সরকার তাদের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ জেলাগুলোতে কড়া সতর্কতা ও বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের নির্দেশ জারি করেছে। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্যাদি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপ্পা জেলায় জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে প্রথমে ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সি আরেক ব্যক্তি মারা যান। এই ঘটনার পরপরই অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দপ্তর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, মুম্বাইতে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানু করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে গত ১২ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের এই পরিস্থিতির কারণে ওড়িশা সরকার তাদের সীমান্তবর্তী মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম এবং নবরঙ্গপুর জেলায় লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং ও কঠোর নজরদারি শুরু করেছে, যদিও ওড়িশায় এখন পর্যন্ত কোনো পজিটিভ কেস পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  সৌদিতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহীর মৃত্যু

এই পরিস্থিতিতে ভারতের হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ড. দিলীপ গুড়ে আশ্বস্ত করে বলেন, কাদাপ্পা এলাকায় যে দুই ব্যক্তি মারা গেছেন, তারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, লিভার বা কিডনিজনিত জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এই ধরনের গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের কারণেও আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে, তাই এটি নিয়ে বাড়তি আতঙ্কের কিছু নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ভারতীয় নাগরিকের শরীরে পূর্ববর্তী সংক্রমণ এবং ব্যাপক টিকাদানের ফলে শক্তিশালী ‘হাইব্রিড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে দেশজুড়ে নতুন করে বড় কোনো মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

আস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শিবরাজ এ এল এই বিষয়ে জানান, কোভিড এখন এন্ডেমিক বা স্থানীয় সাধারণ রোগ হিসেবে রূপ নিয়েছে। এর ফলে মাঝে মধ্যে কিছু অঞ্চলে ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও জিনোমিক পরীক্ষার মতো সব ধরনের চিকিৎসা প্রস্তুতি রয়েছে। তাই নতুন কোনো কঠোর বিধিনিষেধের ভয় না পেয়ে সাধারণ মানুষকে কেবল স্বাস্থ্য সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে আবার করণার হানা: ২ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০২:১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু এবং নতুন করে আটজন পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্যে এই মৃত্যুর ঘটনার জেরে ওড়িশা সরকার তাদের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ জেলাগুলোতে কড়া সতর্কতা ও বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের নির্দেশ জারি করেছে। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্যাদি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপ্পা জেলায় জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে প্রথমে ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সি আরেক ব্যক্তি মারা যান। এই ঘটনার পরপরই অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দপ্তর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, মুম্বাইতে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানু করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে গত ১২ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের এই পরিস্থিতির কারণে ওড়িশা সরকার তাদের সীমান্তবর্তী মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি, গঞ্জাম এবং নবরঙ্গপুর জেলায় লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং ও কঠোর নজরদারি শুরু করেছে, যদিও ওড়িশায় এখন পর্যন্ত কোনো পজিটিভ কেস পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

এই পরিস্থিতিতে ভারতের হায়দরাবাদের যশোদা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান ড. দিলীপ গুড়ে আশ্বস্ত করে বলেন, কাদাপ্পা এলাকায় যে দুই ব্যক্তি মারা গেছেন, তারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, লিভার বা কিডনিজনিত জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এই ধরনের গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের কারণেও আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে, তাই এটি নিয়ে বাড়তি আতঙ্কের কিছু নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ভারতীয় নাগরিকের শরীরে পূর্ববর্তী সংক্রমণ এবং ব্যাপক টিকাদানের ফলে শক্তিশালী ‘হাইব্রিড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে দেশজুড়ে নতুন করে বড় কোনো মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

আস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শিবরাজ এ এল এই বিষয়ে জানান, কোভিড এখন এন্ডেমিক বা স্থানীয় সাধারণ রোগ হিসেবে রূপ নিয়েছে। এর ফলে মাঝে মধ্যে কিছু অঞ্চলে ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও জিনোমিক পরীক্ষার মতো সব ধরনের চিকিৎসা প্রস্তুতি রয়েছে। তাই নতুন কোনো কঠোর বিধিনিষেধের ভয় না পেয়ে সাধারণ মানুষকে কেবল স্বাস্থ্য সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।