চিকিৎসা সরঞ্জাম যাচ্ছে ভাঙারির দোকানে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 17
পরিকল্পনা ছাড়াই চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কারণে অনেক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হয়ে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় ভাঙারির দোকানে চলে যাচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত না করেই কেনা হওয়ায় কোটি কোটি টাকার কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো অব্যবহৃত রয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খুলনা ও ফরিদপুরে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন সুরক্ষা বাংকার নির্মাণ না করেই প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি রেডিওথেরাপি যন্ত্র কেনা হয়েছিল। ফলে যন্ত্র দুটি এখনো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি এবং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কারণে অনেক হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন পাঠানো হলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। একইভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি থাকলেও ল্যাব টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলোও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিস্থিতি তুলে ধরে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার বলেন, প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য ওই হাসপাতালে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া সেখানে ৬৮টি পদ শূন্য রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নারী চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও সংকট রয়েছে।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে নিয়োগ না হওয়া, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং জনস্বার্থ উপেক্ষার কারণে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে এক ঘণ্টা সময় পেলেও তা শেষ করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিছু পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও বিভিন্ন শর্ত সংযুক্ত করায় সেগুলো নিয়ে আদালতে মামলার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, আক্রান্তদের ৯২ শতাংশেরও বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। এছাড়া দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জনবল রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন এবং সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন।

























