ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অ্যান্ডি বার্নহাম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 0

ছবিসংগৃহীত

 

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের বিপুল সমর্থন পেয়ে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। দলীয় নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই লেবার পার্টির ৪০৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন পেয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে তার প্রয়োজন ৩২৩ জনের সমর্থন। অর্থাৎ লক্ষ্য পূরণে তার আর মাত্র একটি সমর্থন প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে: ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান

এদিকে কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, সময়মতো মনোনয়ন দিতে না পারলেও তারা সোমবার সংসদে ফিরে বার্নহামকেই সমর্থন দেবেন।

লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী বৃহস্পতিবার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বার্নহামের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তিনি ৩২৩ জনের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন সংগ্রহ করা গাণিতিকভাবে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার বার্নহামকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর ২০ জুলাই তাকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এর পরই নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে আসেন অ্যান্ডি বার্নহাম। ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক মহলে তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্নহাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচন দেবেন না। বরং বর্তমান সংসদের মেয়াদ পূর্ণ করে সরকারের নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবেন। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) হিসেবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করেননি। তার মতে, ব্যক্তি নয়, নীতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং স্থানীয় ব্যবসা ও আতিথেয়তা খাতে কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।

তবে তার উত্থান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভাষণ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্ন না নেওয়ায় বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যদিও তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, প্রচলিত রাজনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তে বার্নহাম সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল অনুসরণ করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এক দশকে ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং সর্বশেষ কিয়ার স্টারমার—মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন বা ক্ষমতা হারান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর দেশের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটাতে আগের নেতারা সফল না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অ্যান্ডি বার্নহাম

আপডেট সময় ০৭:৪১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

 

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের বিপুল সমর্থন পেয়ে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। দলীয় নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই লেবার পার্টির ৪০৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন পেয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে তার প্রয়োজন ৩২৩ জনের সমর্থন। অর্থাৎ লক্ষ্য পূরণে তার আর মাত্র একটি সমর্থন প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে

এদিকে কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, সময়মতো মনোনয়ন দিতে না পারলেও তারা সোমবার সংসদে ফিরে বার্নহামকেই সমর্থন দেবেন।

লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী বৃহস্পতিবার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বার্নহামের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তিনি ৩২৩ জনের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন সংগ্রহ করা গাণিতিকভাবে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার বার্নহামকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর ২০ জুলাই তাকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এর পরই নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে আসেন অ্যান্ডি বার্নহাম। ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক মহলে তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্নহাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচন দেবেন না। বরং বর্তমান সংসদের মেয়াদ পূর্ণ করে সরকারের নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবেন। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) হিসেবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করেননি। তার মতে, ব্যক্তি নয়, নীতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং স্থানীয় ব্যবসা ও আতিথেয়তা খাতে কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।

তবে তার উত্থান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভাষণ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্ন না নেওয়ায় বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যদিও তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, প্রচলিত রাজনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তে বার্নহাম সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল অনুসরণ করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এক দশকে ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং সর্বশেষ কিয়ার স্টারমার—মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন বা ক্ষমতা হারান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর দেশের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটাতে আগের নেতারা সফল না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।