ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে খামেনির দাফন সম্পন্ন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 12

ছবিসংগৃহীত

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে জন্মভূমি মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই স্থানীয় সময় দুপুরে ইমাম রেজার মাজারের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার, ১০ জুলাই তেহরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। জন্মভূমির মাটিতেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি পরিপন্থী: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

দাফন অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তার মেজো ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন। এছাড়া মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর সেই দায়িত্ব পান আলী খামেনি। সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৩৭ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরিহিত আলেমরা হেঁটে যান। কালো পোশাক পরা বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শেষযাত্রায় অংশ নেন।

খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে ইরানে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন তার বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। এ সময় খামেনির চার ছেলের মধ্যে মোস্তফা, মাসুদ ও মেইসাম উপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনি অনুপস্থিত ছিলেন।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মোজতবা খামেনি শোকানুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি মাশহাদ ও কোমে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে খামেনির দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ০২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে জন্মভূমি মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই স্থানীয় সময় দুপুরে ইমাম রেজার মাজারের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। শুক্রবার, ১০ জুলাই তেহরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। জন্মভূমির মাটিতেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে আহত অন্তত ৩০ জন, শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

দাফন অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তার মেজো ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন। এছাড়া মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর সেই দায়িত্ব পান আলী খামেনি। সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৩৭ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরিহিত আলেমরা হেঁটে যান। কালো পোশাক পরা বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শেষযাত্রায় অংশ নেন।

খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে ইরানে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন তার বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। এ সময় খামেনির চার ছেলের মধ্যে মোস্তফা, মাসুদ ও মেইসাম উপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনি অনুপস্থিত ছিলেন।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মোজতবা খামেনি শোকানুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি মাশহাদ ও কোমে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।