সবুজায়ন ছাড়া টেকসই ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 20
সবুজায়নকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার। তিনি বলেন, বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানবসমাজের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতিটি উদ্যোগ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলে একটি গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত। এতে যেমন একটি শিশুর বেড়ে ওঠা উদযাপিত হবে, তেমনি সবুজায়নও একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে।
সরকার পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কোন অঞ্চলে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী—তা গবেষণার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো দ্রুত বর্ধনশীল গাছের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী ও বিপন্ন প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রোপণের পর গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান গাছ কেটে না ফেলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সরকার বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ এখন বাস্তবতা। এ পরিস্থিতিতে সরকার একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গঠারে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্ব পাবে।
তিনি আরও জানান, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ উন্নয়ন শুধু বৃক্ষরোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ‘রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল (৩আর)’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।






















