ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

বরিশালে ধর্ষণ মামলার রায়, আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

 

বরিশালে কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় আলমগীর সিকদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণ ও শিক্ষার ব্যয় রাষ্ট্রকে বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আশরাফ উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফয়সাল হোসেন।

আরও পড়ুন  আদালতকে দেওয়া কথা রাখলেন না; ফের কারাগারে গায়ক নোবেল

তিনি জানান, আদালত মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত তার প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহনের নির্দেশ দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর সিকদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেশবকাঠী গ্রামের মৃত আবদুর রশিদ সিকদারের ছেলে।

মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দূরসম্পর্কের মামাতো ভাই ছিলেন আলমগীর। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে কিশোরীর তার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ সুযোগে ২০২২ সালের শেষের দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সময় আলমগীর তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ আছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ আলমগীর দ্বিতীয়বার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি পরিবারের কাছে ধর্ষণের বিষয়টি জানান।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২১ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম একমাত্র আসামি আলমগীর সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

আদালত ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আলমগীর সিকদারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা। তিনি দ্রুত এ রায় কার্যকরের দাবি জানান। তার ভাষ্য, ধর্ষণের ঘটনায় তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় তিন বছর এবং ভুক্তভোগী ও তার সন্তান তার সঙ্গেই বসবাস করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বরিশালে ধর্ষণ মামলার রায়, আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

আপডেট সময় ০৭:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

বরিশালে কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় আলমগীর সিকদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণ ও শিক্ষার ব্যয় রাষ্ট্রকে বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আশরাফ উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফয়সাল হোসেন।

আরও পড়ুন  দুমকিতে ধর্ষন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে বাদী নিজেই ফেসে গেলেন

তিনি জানান, আদালত মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত তার প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহনের নির্দেশ দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর সিকদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেশবকাঠী গ্রামের মৃত আবদুর রশিদ সিকদারের ছেলে।

মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দূরসম্পর্কের মামাতো ভাই ছিলেন আলমগীর। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে কিশোরীর তার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ সুযোগে ২০২২ সালের শেষের দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সময় আলমগীর তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ আছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ আলমগীর দ্বিতীয়বার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি পরিবারের কাছে ধর্ষণের বিষয়টি জানান।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২১ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম একমাত্র আসামি আলমগীর সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

আদালত ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আলমগীর সিকদারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা। তিনি দ্রুত এ রায় কার্যকরের দাবি জানান। তার ভাষ্য, ধর্ষণের ঘটনায় তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় তিন বছর এবং ভুক্তভোগী ও তার সন্তান তার সঙ্গেই বসবাস করছেন।