ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 23

ছবি: এআই দ্বারা তৈরি

 

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সন্তানের আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এ এ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণ-পোষণের আওতায় খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে নকশা না মেনে ভবন নির্মাণ, ১ লাখ টাকা জরিমানা

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার জন্য একসঙ্গে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

এ ছাড়া সন্তানদের নিয়মিত পিতা-মাতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত প্রদান করতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনিদের ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্ব পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনের ৫(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা যাবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। তার মতে, আইনের ৩ ধারায় ভরণ-পোষণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পিতা-মাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী সন্তানদের জন্য কঠোর বার্তা বহন করে। পাশাপাশি ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনিদের ওপর অর্পণ করায় পারিবারিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন জানান, আইনের ৮ ধারায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, এটি অসহায় প্রবীণদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তার ভাষ্য, এ আইন কেবল শাস্তির বিধান দেওয়ার জন্য নয়; সন্তানদের পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও যত্ন নিশ্চিতভাবে পাবেন।

সূত্র: বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৫৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

 

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সন্তানের আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এ এ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণ-পোষণের আওতায় খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন  নেইমারের স্বাক্ষরিত বল চুরির ঘটনায় ব্রাজিলে এক ব্যক্তির ১৭ বছরের কারাদণ্ড

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার জন্য একসঙ্গে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

এ ছাড়া সন্তানদের নিয়মিত পিতা-মাতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত প্রদান করতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনিদের ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্ব পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনের ৫(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা যাবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। তার মতে, আইনের ৩ ধারায় ভরণ-পোষণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পিতা-মাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী সন্তানদের জন্য কঠোর বার্তা বহন করে। পাশাপাশি ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনিদের ওপর অর্পণ করায় পারিবারিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন জানান, আইনের ৮ ধারায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, এটি অসহায় প্রবীণদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তার ভাষ্য, এ আইন কেবল শাস্তির বিধান দেওয়ার জন্য নয়; সন্তানদের পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও যত্ন নিশ্চিতভাবে পাবেন।

সূত্র: বাসস