ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অবসর নাকি সপ্তম বিশ্বকাপ, মেসি স্পষ্ট করলেন অবস্থান ‘ঝর্ণা ছিলেন বৈধ স্ত্রী’, রয়েল রিসোর্ট ইস্যুতে মামুনুলের দাবি মধ্যরাতের মাঝেই একাধিক অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ গেল একই পরিবারের চারজনের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে উসকানির চেষ্টা হচ্ছে: রিজভী বারবার রাস্তা খনন বন্ধে সমন্বিত পরিকল্পনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন, বেনজীর প্রত্যর্পণে আশাবাদ সরকার ২৩ জুন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

‘ঝর্ণা ছিলেন বৈধ স্ত্রী’, রয়েল রিসোর্ট ইস্যুতে মামুনুলের দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 13

ছবি: সংগৃহীত

 

 

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত রয়েল রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে পাঁচ বছর পর বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি দাবি করেছেন, রিসোর্টে তার সঙ্গে থাকা জান্নাত আরা ঝর্ণা তার বৈধ স্ত্রী ছিলেন এবং তৎকালীন সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিল।

আরও পড়ুন  দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো সাবেক মেয়র আইভীকে

শনিবার (২০ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন।

পোস্টে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। তার দাবি, ওই সময় পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে তার কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চালান।

তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আচরণ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা নারীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল। তবে ওই সময় তারা দুজনই নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

মামুনুল হক আরও দাবি করেন, পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা তাদের পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। একই সময়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে তিনি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঝর্ণা এর আগে অন্য একজনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন এবং বিচ্ছেদের পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ইসলামী শরিয়াহ অনুসারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

বিবাহ গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মামুনুল হক বলেন, একাধিক বিয়ের বিষয়টি পারিবারিকভাবে জটিল হওয়ায় তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তার দাবি, ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং ঘটনার সময় পুলিশ কর্মকর্তারাও তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

রিসোর্টের রেজিস্টারে অন্য নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যগত জটিলতার কারণে আলোচনার ভিত্তিতে স্ত্রীর স্থানে তার প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

এ ছাড়া নিজের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় ঝর্ণাকে অন্য পরিচয়ে উল্লেখ করার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তার দাবি, পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সে সময় তিনি বিষয়টি সরাসরি উপস্থাপন করেননি।

পোস্টে মামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, রিসোর্টকাণ্ডের পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে রাজনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি গ্রহণ করেননি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ‘মুতা বিয়ে’ বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ের যে অভিযোগ প্রচারিত হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে মামুনুল হক জানান, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। পরবর্তীতে পারস্পরিক মতপার্থক্যের কারণে আলোচনার মাধ্যমে তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন।

পোস্টের শেষাংশে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে মামুনুল হকের এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ঝর্ণা ছিলেন বৈধ স্ত্রী’, রয়েল রিসোর্ট ইস্যুতে মামুনুলের দাবি

আপডেট সময় ০৭:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

 

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত রয়েল রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে পাঁচ বছর পর বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি দাবি করেছেন, রিসোর্টে তার সঙ্গে থাকা জান্নাত আরা ঝর্ণা তার বৈধ স্ত্রী ছিলেন এবং তৎকালীন সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিল।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করলো বাবা-মা

শনিবার (২০ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন।

পোস্টে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। তার দাবি, ওই সময় পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে তার কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চালান।

তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আচরণ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা নারীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল। তবে ওই সময় তারা দুজনই নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

মামুনুল হক আরও দাবি করেন, পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা তাদের পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। একই সময়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে তিনি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঝর্ণা এর আগে অন্য একজনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন এবং বিচ্ছেদের পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ইসলামী শরিয়াহ অনুসারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

বিবাহ গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মামুনুল হক বলেন, একাধিক বিয়ের বিষয়টি পারিবারিকভাবে জটিল হওয়ায় তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তার দাবি, ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং ঘটনার সময় পুলিশ কর্মকর্তারাও তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

রিসোর্টের রেজিস্টারে অন্য নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যগত জটিলতার কারণে আলোচনার ভিত্তিতে স্ত্রীর স্থানে তার প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

এ ছাড়া নিজের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় ঝর্ণাকে অন্য পরিচয়ে উল্লেখ করার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তার দাবি, পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সে সময় তিনি বিষয়টি সরাসরি উপস্থাপন করেননি।

পোস্টে মামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, রিসোর্টকাণ্ডের পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে রাজনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি গ্রহণ করেননি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ‘মুতা বিয়ে’ বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ের যে অভিযোগ প্রচারিত হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে মামুনুল হক জানান, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। পরবর্তীতে পারস্পরিক মতপার্থক্যের কারণে আলোচনার মাধ্যমে তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন।

পোস্টের শেষাংশে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে মামুনুল হকের এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।