ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
নির্বাচনের আগে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করেছি, দেশ গঠনেও থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ব্যাকুল কেউ কেউ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সালমান শাহ হ/ত্যা মা/ম/লায় গ্রে/প্তার ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ কলকাতায় মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চু*রির মা*ম*লায় তদন্ত প্রতিবেদন ৯৭ বার পেছাল হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হ/ত্যা মা*ম*লা, ডন আ*টক সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মীকে পি*টি*য়ে হাসপাতালে পাঠাল নি/ষি/দ্ধ ছাত্রলীগ ‘বিভ্রান্ত করে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না’: প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সিভিল সার্জনকে বদলির নির্দেশ

গুম করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এ আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 38

ছবি: সংগৃহীত

 

র‍্যাব-১ কার্যালয়ের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বা আয়নাঘরে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাকে ভারতে নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষটি শনাক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ কার্যালয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের উপস্থিতিতে এ বিচারিক পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  ১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির রুল ৪৬এ, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল এ বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেন।

তিনি বলেন, ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও বিচারকদের শুধু নথি বা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে সরেজমিনে ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার দাবি, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকা সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হতো এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলেও অনেকের আর খোঁজ মেলেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীও রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগীর বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে টিএফআই সেলের কয়েকটি কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করেছেন। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ওই স্থাপনার একটি কক্ষে আটকে রাখার এবং পরে ভারতে নেওয়ার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি আটককেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী শনিবার সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন বিচারকেরা।

আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন ব্যক্তিকে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার অভিযোগ, টিএফআই সেলে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব অভিযোগে বিচার চলছে এবং আরও বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও দাবি করেন, ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল নির্মাণ করে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামত পাওয়া গেছে। তদন্তের একপর্যায়ে কয়েকটি নতুন দেয়াল অপসারণের পর আড়ালে থাকা কক্ষগুলোর সন্ধান পাওয়া যায় এবং সেখানে বিভিন্ন আলামত মিলেছে বলে তিনি জানান।

তার ভাষ্য, ভবনের নিচতলার একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিচতলা ও ওপরতলা মিলিয়ে মোট ২২টি কক্ষ পাওয়া গেছে। এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের জবাব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, পরবর্তীকালে দেয়াল তুলে বা নতুন নির্মাণের মাধ্যমে যারা এসব কক্ষের অস্তিত্ব গোপনের চেষ্টা করেছেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়ীদের পাশাপাশি নির্দেশদাতা এবং তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুম করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এ আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৪:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

 

র‍্যাব-১ কার্যালয়ের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বা আয়নাঘরে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাকে ভারতে নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষটি শনাক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ কার্যালয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের উপস্থিতিতে এ বিচারিক পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  ১/১১-তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির রুল ৪৬এ, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল এ বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দেন।

তিনি বলেন, ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও বিচারকদের শুধু নথি বা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে সরেজমিনে ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার দাবি, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকা সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হতো এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলেও অনেকের আর খোঁজ মেলেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীও রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর ফিরে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগীর বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে টিএফআই সেলের কয়েকটি কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করেছেন। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ওই স্থাপনার একটি কক্ষে আটকে রাখার এবং পরে ভারতে নেওয়ার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, র‍্যাব-১-এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি আটককেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী শনিবার সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন বিচারকেরা।

আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন ব্যক্তিকে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার অভিযোগ, টিএফআই সেলে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব অভিযোগে বিচার চলছে এবং আরও বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও দাবি করেন, ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল নির্মাণ করে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামত পাওয়া গেছে। তদন্তের একপর্যায়ে কয়েকটি নতুন দেয়াল অপসারণের পর আড়ালে থাকা কক্ষগুলোর সন্ধান পাওয়া যায় এবং সেখানে বিভিন্ন আলামত মিলেছে বলে তিনি জানান।

তার ভাষ্য, ভবনের নিচতলার একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিচতলা ও ওপরতলা মিলিয়ে মোট ২২টি কক্ষ পাওয়া গেছে। এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের জবাব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, পরবর্তীকালে দেয়াল তুলে বা নতুন নির্মাণের মাধ্যমে যারা এসব কক্ষের অস্তিত্ব গোপনের চেষ্টা করেছেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়ীদের পাশাপাশি নির্দেশদাতা এবং তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।