ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন, প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন ও ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিবুল হোসেন এবং মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী। গত বুধবার, ১৭ জুন নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন  মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেফতার

সিআইডি জানিয়েছে, ভুক্তভোগী একজন ওমানপ্রবাসী। এজাহারে উল্লেখ আছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে যোগাযোগ করেন। পরে ওই ব্যক্তি কথিত অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী খাজা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দেন।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে খাজা মোহাম্মদ আলী পরিচয়ে একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রসেসিং ফি, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসাসংক্রান্ত ব্যয়ের কথা বলে অর্থ দাবি করেন।

অভিযোগ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে ধাপে ধাপে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরে আরও অর্থ নেওয়ার জন্য একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন বলে সিআইডি জানিয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাগ্নে বাদী হয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেফতার রনি ইসলাম নিজেকে খাজা মোহাম্মদ আলী নামে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সিআইডির দাবি, ওই পেজে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভিডিও ও প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হতো। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেফতার রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিদেশে চাকরির সুযোগ দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন, প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৪:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন ও ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিবুল হোসেন এবং মো. রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলী। গত বুধবার, ১৭ জুন নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন  মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেফতার

সিআইডি জানিয়েছে, ভুক্তভোগী একজন ওমানপ্রবাসী। এজাহারে উল্লেখ আছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে যোগাযোগ করেন। পরে ওই ব্যক্তি কথিত অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী খাজা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তার যোগাযোগ করিয়ে দেন।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে খাজা মোহাম্মদ আলী পরিচয়ে একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রসেসিং ফি, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসাসংক্রান্ত ব্যয়ের কথা বলে অর্থ দাবি করেন।

অভিযোগ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে ধাপে ধাপে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরে আরও অর্থ নেওয়ার জন্য একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন বলে সিআইডি জানিয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাগ্নে বাদী হয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেফতার রনি ইসলাম নিজেকে খাজা মোহাম্মদ আলী নামে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সিআইডির দাবি, ওই পেজে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভিডিও ও প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হতো। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেফতার রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিদেশে চাকরির সুযোগ দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।