ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শুধু দুর্নীতি নয়, অপচয়ও করেছে আ.লীগ: প্রতিমন্ত্রী সাকি সংসদে প্ল্যাকার্ড হাতে এমপি, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন দিন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সংসদে ফখরুল গণমাধ্যম উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই দেশে ফেরা: জাহেদ উর রহমান ফুটবল বিশ্বকাপে কোন দলের সমর্থক প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের ‘কালো দিবস’ আজ, বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা আদ্-দ্বীনের অন্য শাখা চালু রাখতে বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকেয়া বেতনের দাবিতে অবরোধে, মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে তীব্র যানজট ফুটবল মাঠ থেকে ক্যামেরার সামনে, ‘ব্রাজেন্টিনা’য় অভিনয়ে জামাল ভূঁইয়া

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি সই, বিস্তারিত প্রকাশের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে হওয়া এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার, ১৫ জুন কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে বৈঠককালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

আরও পড়ুন  গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব: কাতার ও মিসরের উদ্যোগে আলোচনা তৎপরতা

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি আলোচনা শুরু হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নির্ভর করবে ইরান চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি সংক্ষিপ্ত একটি কাঠামোগত নথি। এতে মূল নীতিগত বিষয়গুলো উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ বিস্তারিত পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নথিতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে যাচাইযোগ্যভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোবে না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মতে, বুধবারের মধ্যেই চুক্তির আরও কিছু দিক প্রকাশ করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর পুরো চুক্তিপত্র প্রকাশ করা হবে।

চুক্তির আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতার খসড়া নিয়ে আলোচনা চালাবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, এই অগ্রগতির ফলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবাননের পরিস্থিতি আলোচনার অংশ হলেও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চুক্তির শর্তের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এদিকে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আগে দক্ষিণ লেবাননে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়। চুক্তির অগ্রগতির ঘোষণা আসার পর এটিই ছিল প্রথম বড় ধরনের হামলার ঘটনা। পরে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করা হয়।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের গভীর অবিশ্বাস এখনো রয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল উত্তেজনা কমানোর পথে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে সহিংসতার দীর্ঘ চক্র থেকে অঞ্চলটি স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসতে পারবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি সই, বিস্তারিত প্রকাশের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০৯:২৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে হওয়া এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার, ১৫ জুন কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে বৈঠককালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

আরও পড়ুন  গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব: কাতার ও মিসরের উদ্যোগে আলোচনা তৎপরতা

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি আলোচনা শুরু হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নির্ভর করবে ইরান চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করছে কি না, তার ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি সংক্ষিপ্ত একটি কাঠামোগত নথি। এতে মূল নীতিগত বিষয়গুলো উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ বিস্তারিত পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নথিতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে যাচাইযোগ্যভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোবে না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মতে, বুধবারের মধ্যেই চুক্তির আরও কিছু দিক প্রকাশ করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর পুরো চুক্তিপত্র প্রকাশ করা হবে।

চুক্তির আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতার খসড়া নিয়ে আলোচনা চালাবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, এই অগ্রগতির ফলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লেবাননের পরিস্থিতি আলোচনার অংশ হলেও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চুক্তির শর্তের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এদিকে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের আগে দক্ষিণ লেবাননে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়। চুক্তির অগ্রগতির ঘোষণা আসার পর এটিই ছিল প্রথম বড় ধরনের হামলার ঘটনা। পরে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করা হয়।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের গভীর অবিশ্বাস এখনো রয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল উত্তেজনা কমানোর পথে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে সহিংসতার দীর্ঘ চক্র থেকে অঞ্চলটি স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসতে পারবে।