শুধু দুর্নীতি নয়, অপচয়ও করেছে আ.লীগ: প্রতিমন্ত্রী সাকি
- আপডেট সময় ০৭:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 0
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুধু দুর্নীতি নয়, বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয়ও হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ও বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, আর কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করে নতুন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকি বলেন, অতীতের প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি, ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং জনগণের অর্থ কতটা সঠিকভাবে ব্যবহার হয়েছে, তা এখন গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। চলমান প্রকল্পগুলো বিশ্লেষণ করে পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করেছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একাধিকবার সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে। এ বাস্তবতায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়নের কাজ চলছে, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিচালিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কৌশল এখন পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন এবং পুনর্গঠনের তিনটি ধাপকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বাস্তবসম্মত, কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাজ শুধু প্রকল্প অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ, অগ্রগতি মূল্যায়ন, গুণগত মান যাচাই এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ে। একই সঙ্গে মূল্যায়ন বিভাগ নিয়মিতভাবে প্রকল্পগুলোর অর্জন ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।
দীর্ঘসূত্রিতা, অপচয় এবং অনিয়মের কারণ অনুসন্ধানে সরকার নতুন গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, অতীতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে কারা দায়ী, কেন ব্যয় বেড়েছে এবং কেন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি—এসব বিষয়ে তদন্ত করা হবে। দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কিছু প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৯০ শতাংশের বেশি হলেও সেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অসমাপ্ত রয়েছে। এমন প্রকল্প দ্রুত শেষ করার অনুমোদন দেওয়া হলেও একই সঙ্গে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
চলমান প্রকল্প মূল্যায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রকল্পগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ৬০ শতাংশের বেশি, সেগুলোতে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এসব প্রকল্প পুনর্বিন্যাস করে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে জনগণ এর সুফল পেতে পারে।
অন্যদিকে ৬০ শতাংশের নিচে, বিশেষ করে ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সেগুলোকে অন্য প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় বা নতুন কাঠামোয় বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬০ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা হবে। আর ৩০ শতাংশের নিচে থাকা প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করে নতুন প্রকল্পের সঙ্গে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এতে অপচয় কমবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি বা দীর্ঘসূত্রিতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে একনেক সভায় মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’।
এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ এবং ‘পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলার নির্দিষ্ট এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পও একনেকের অনুমোদন লাভ করেছে।























