ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শুধু দুর্নীতি নয়, অপচয়ও করেছে আ.লীগ: প্রতিমন্ত্রী সাকি সংসদে প্ল্যাকার্ড হাতে এমপি, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন দিন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সংসদে ফখরুল গণমাধ্যম উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই দেশে ফেরা: জাহেদ উর রহমান ফুটবল বিশ্বকাপে কোন দলের সমর্থক প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের ‘কালো দিবস’ আজ, বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা আদ্-দ্বীনের অন্য শাখা চালু রাখতে বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকেয়া বেতনের দাবিতে অবরোধে, মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে তীব্র যানজট ফুটবল মাঠ থেকে ক্যামেরার সামনে, ‘ব্রাজেন্টিনা’য় অভিনয়ে জামাল ভূঁইয়া

গণমাধ্যম উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 35

ছবি সংগৃহীত

 

সংবাদমাধ্যম খাতে সৎ ও দায়িত্বশীল উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম শুধু মুনাফাভিত্তিক শিল্প নয়, বরং জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এ খাতে রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল খাতগুলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। গণমাধ্যমও তেমন একটি ক্ষেত্র। এ কারণে সৎভাবে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের চিন্তায় রয়েছে।

তিনি বলেন, সৃষ্টিশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে রাষ্ট্র এবং সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত না করলে সমাজ নতুন পথ খুঁজে পায় না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যম পরিচালনায় প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও সরকার পর্যবেক্ষণ করবে।

রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক অনেক সময় কর্তৃত্বমূলক ছিল। তবে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে সমস্যা সমাধানের অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকরা যেমন সমস্যার বিশ্লেষণ করতে পারেন, তেমনি তার সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে সক্ষম।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের মধ্যে একটি নীতিনির্ধারণী ফোরাম থাকা প্রয়োজন বলেও মত দেন তথ্যমন্ত্রী। তার মতে, এ ধরনের একটি ফোরাম তথ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল ও স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় রাখে। ফলে ভুল সিদ্ধান্ত বা বিচ্যুতির সুযোগ কমে আসে এবং এর সুফল পায় সাধারণ জনগণ।

অনুষ্ঠানে নাগরিক সাংবাদিকতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় নাগরিক সাংবাদিকতাকে অস্বীকার বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বরং এই পরিবর্তিত বাস্তবতা কীভাবে আরও কাঠামোবদ্ধ ও দায়িত্বশীল করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যেসব গণমাধ্যম নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করে, তাদের অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা তদারকির দায়িত্ব সরকারের রয়েছে।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন।

 

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

 

সংবাদমাধ্যম খাতে সৎ ও দায়িত্বশীল উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম শুধু মুনাফাভিত্তিক শিল্প নয়, বরং জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এ খাতে রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল খাতগুলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। গণমাধ্যমও তেমন একটি ক্ষেত্র। এ কারণে সৎভাবে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের চিন্তায় রয়েছে।

তিনি বলেন, সৃষ্টিশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে রাষ্ট্র এবং সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত না করলে সমাজ নতুন পথ খুঁজে পায় না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যম পরিচালনায় প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও সরকার পর্যবেক্ষণ করবে।

রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক অনেক সময় কর্তৃত্বমূলক ছিল। তবে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে সমস্যা সমাধানের অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকরা যেমন সমস্যার বিশ্লেষণ করতে পারেন, তেমনি তার সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে সক্ষম।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের মধ্যে একটি নীতিনির্ধারণী ফোরাম থাকা প্রয়োজন বলেও মত দেন তথ্যমন্ত্রী। তার মতে, এ ধরনের একটি ফোরাম তথ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল ও স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় রাখে। ফলে ভুল সিদ্ধান্ত বা বিচ্যুতির সুযোগ কমে আসে এবং এর সুফল পায় সাধারণ জনগণ।

অনুষ্ঠানে নাগরিক সাংবাদিকতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় নাগরিক সাংবাদিকতাকে অস্বীকার বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বরং এই পরিবর্তিত বাস্তবতা কীভাবে আরও কাঠামোবদ্ধ ও দায়িত্বশীল করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যেসব গণমাধ্যম নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করে, তাদের অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা তদারকির দায়িত্ব সরকারের রয়েছে।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন।