ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান ও ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 73

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে নতুন একটি শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ওই খসড়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী । তিনি এ বিষয়ে গুজব ও অপতথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে কিছু পক্ষ অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে এসব প্রচারণা উপেক্ষা করে তিনি দাবি করেন, শান্তি চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই তাতে সম্মতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি: জেডি ভ্যান্সের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপগুলো চূড়ান্ত করতে ইসলামাবাদ উভয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথক এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, সমঝোতার সম্ভাবনা এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি পৌঁছেনি। একই সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে অযথা জল্পনা-কল্পনা না করার আহ্বান জানান তিনি।

তবে প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, খসড়ায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং সেখানে স্থাপিত মাইন অপসারণ করে, তাহলে দেশটির স্থগিত বা ফ্রোজেন তহবিল থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কথাও আলোচনায় রয়েছে।

খসড়ায় আরও উল্লেখ থাকতে পারে যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য উভয় পক্ষ ৬০ দিনের সময় পাবে। এছাড়া যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পূর্বের কিছু অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্নে এখনো মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়টি ওয়াশিংটনের প্রধান শর্তগুলোর একটি। এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল অর্থ ছাড়, ক্ষতিপূরণ কিংবা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট । তিনি এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, কেবল আলোচনায় অংশগ্রহণ বা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই ইরান কোনো আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাবে না।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অন্যতম দাবি ছিল লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা। তবে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান ও ইরান

আপডেট সময় ১২:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে নতুন একটি শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ওই খসড়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী । তিনি এ বিষয়ে গুজব ও অপতথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে কিছু পক্ষ অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে এসব প্রচারণা উপেক্ষা করে তিনি দাবি করেন, শান্তি চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই তাতে সম্মতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন  সিরিয়ায় সেনা হ্রাস করছে যুক্তরাষ্ট্র, আইএস দমনে কৌশলগত পরিবর্তন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপগুলো চূড়ান্ত করতে ইসলামাবাদ উভয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথক এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, সমঝোতার সম্ভাবনা এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি পৌঁছেনি। একই সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে অযথা জল্পনা-কল্পনা না করার আহ্বান জানান তিনি।

তবে প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, খসড়ায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং সেখানে স্থাপিত মাইন অপসারণ করে, তাহলে দেশটির স্থগিত বা ফ্রোজেন তহবিল থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কথাও আলোচনায় রয়েছে।

খসড়ায় আরও উল্লেখ থাকতে পারে যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য উভয় পক্ষ ৬০ দিনের সময় পাবে। এছাড়া যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পূর্বের কিছু অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্নে এখনো মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়টি ওয়াশিংটনের প্রধান শর্তগুলোর একটি। এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল অর্থ ছাড়, ক্ষতিপূরণ কিংবা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট । তিনি এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, কেবল আলোচনায় অংশগ্রহণ বা চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই ইরান কোনো আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাবে না।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অন্যতম দাবি ছিল লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা। তবে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ