নারী ও শিশু নির্যাতনে হাই কোর্টে বিশেষ বেঞ্চ, দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ
- আপডেট সময় ০৭:০৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / 12
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় হওয়া মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাই কোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার, ৭ জুন আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ সিদ্ধান্ত দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘদিনের বিলম্ব কমবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কুদ্দুস কাজল সাম্প্রতিক আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিম্ন আদালত ওই মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে হাই কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন আলোচিত মামলায় রায় হলেও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সেই রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখতে পায় না। এর ফলে বিচার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও প্রশ্ন থেকে যায়।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তিনি উন্মুক্ত আদালতে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন। পরে প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন মামলাগুলোর শুনানির জন্য হাই কোর্টে একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত দেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু রামিসা, আছিয়া ও রসু খাঁসহ এ ধরনের মামলাগুলোর শুনানি ওই বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী রোববার থেকে বেঞ্চটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বিশেষ বেঞ্চে বিচারাধীন এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা কোনো ধরনের সময় প্রার্থনা করবেন না। দ্রুত শুনানি নিশ্চিত করতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিচারিক আদালতগুলোতে ছুটি চললেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগের এই উদ্যোগের ফলে আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এই উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার মতে, দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু আলোচিত বা ব্যাপক প্রচার পাওয়া মামলাগুলোর ক্ষেত্রেই নয়, প্রতিটি অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।























